সকাল তখন প্রায় সাড়ে ৭টা। আমরা জনা দশেক যুবক কুমোরটুলি ঘাটের পাশে যোগব্যায়াম করছিলাম। রোজ সকালে এই সময়ে আমরা সেখানে শারীরচর্চা করে থাকি। হঠাৎ করে পাশের এক ক্ষৌরকর্মী এসে আমাদের জানান, দুই মহিলা ট্যাক্সি থেকে একটি ভারী ট্রলি ব্যাগ নামিয়ে গঙ্গার দিকে হাঁটছে। মনে হচ্ছে, ওরা গঙ্গায় ট্রলি ব্যাগটা ফেলে দেবে।
ক্ষৌরকর্মীর কথা শুনে প্রথমে আমরা তেমন আমল দিইনি। কিন্তু তিনি বার বার একই কথা বলতে থাকায় এর পরে আমরা উঠে সে দিকে এগিয়ে যাই। দেখি, ওই দুই মহিলা তত ক্ষণে আমাদের দেখে সামনের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের পক্ষে দু’জন মহিলার পিছু নেওয়াটা শোভন হবে না ভেবে আমরা মন্দিরের পুরোহিতের স্ত্রীকে ডাকি। এর পরে তাঁকে সামনে রেখে ওই দুই মহিলার দিকে আমরা এগিয়ে যাই। তত ক্ষণে ওই দুই মহিলা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বৌদি তাদের ধরে ফেলেন।
ট্রলি ব্যাগের মধ্যে কী আছে? জানতে চেয়েছিলাম আমরা। প্রথমে কিছু বলতে চাইছিল না ওরা। ধীরে ধীরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। ততক্ষণে ওরা বুঝতে পেরেছে, ফাঁপরে পড়েছে! দুই মহিলার মধ্যে অল্পবয়সি মেয়েটি আমতা আমতা করে বলতে থাকে, ট্রলি ব্যাগের মধ্যে কুকুরের দেহ রয়েছে। পরে সবাই চেপে ধরলে বয়স্ক মহিলা বলেন, ট্রলি ব্যাগে রয়েছে আত্মীয়ার দেহ! এর পরেই আমরা কাছের সুতানুটি আউটপোস্টের পুলিশকে খবর দিই। ওখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী খবর দেন উত্তর বন্দর থানায়। পুলিশ না আসা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত আমরা সকলে মিলে ওই দুই মহিলাকে আটকে রেখেছিলাম। এক সময়ে তারা আমাদের গায়েও হাত তোলে।
সকাল ৮টা নাগাদ এর পরে পুলিশ এসে ট্রলি ব্যাগ-সহ দুই মহিলাকে গাড়িতে তোলে। ট্রলি ব্যাগে ভরে যে ভাবে এক মহিলার মৃতদেহ গঙ্গায় ফেলতে এসেছিল ওই দু’জন, তাতে স্থানীয়েরা প্রবল ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আমি পাশেই শোভাবাজারে থাকি। গঙ্গার ধারে প্রায়ই আসি। কিন্তু জীবনে এই প্রথম এমন ঘটনার সাক্ষী থাকলাম। পুলিশ যখন ট্রলি ব্যাগটা খুলছিল, তখন তার ভিতরটা চোখে দেখা যাচ্ছিল না। মানুষ কতটা নৃশংস হলে এ রকম ঘটনা ঘটাতে পারে! যে বা যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিক।