যাদবপুরে ছাত্র সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে রক্তাক্ত দুই অধ্যাপক, হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহতরা

যাদবপুরে ছাত্র সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে রক্তাক্ত দুই অধ্যাপক, হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহতরা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালীন উত্তাল হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শুক্রবার বিকেলে সায়েন্স ও আর্টস ফ্যাকাল্টির মোড়ে এসএফআই (SFI) এবং ডব্লিউটিআই (WTI)-এর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হলেন একাধিক পড়ুয়া। তবে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন দুই সংগঠনের লড়াই থামাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন দুই অধ্যাপক।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

আগামীকাল, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সায়েন্স-আর্টস মোড়ের কাছে ফ্লেক্স লাগানোকে কেন্দ্র করে এসএফআই এবং ডব্লিউটিআই-এর সদস্যদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষের রূপ নেয়।

সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে এসেছিলেন বাংলা এবং এডুকেশন বিভাগের দুই অধ্যাপক। অভিযোগ, উন্মত্ত পড়ুয়াদের হাত থেকে রেহাই পাননি তাঁরাও। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই অধ্যাপককেই বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিক কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত এবং কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ক্যম্পাসে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য: ঝিল থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার

সাম্প্রতিক এই অশান্তির আবহেই যোগ হয়েছে এক ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা। গত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের নিথর দেহ উদ্ধার হয় ক্যাম্পাসের চার নম্বর গেট সংলগ্ন ঝিল থেকে।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় ক্যাম্পাসের ‘ড্রামা ক্লাব’-এর উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। রাত ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ শৌচালয়ের পাশের পুকুরে অনামিকাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন উপস্থিত অনেকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে নাকি পুকুরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশ এই মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।


আইসিসি নির্বাচন ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাদবপুর ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল। ছোটখাটো অশান্তি লেগেই থাকত। কিন্তু শুক্রবারের এই শিক্ষক নিগ্রহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আইসিসি নির্বাচনের উত্তাপকে এক নজিরবিহীন পর্যায়ে নিয়ে গেল।

বিচারের দাবিতে এবং নিরাপত্তার অভাব বোধ করে সরব হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠনের একাংশ। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও, ক্যাম্পাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.