সোমবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছিল রাজধানী দিল্লিকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নীল-সাদা কুর্তা-পাজামা, ফিকে নীল জওহর কোট এবং জারদৌসি কারুকাজের উজ্জ্বল রাজস্থানি পাগড়ি পরে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। প্রথা মেনে ঐতিহ্যবাহী শকটে চড়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিয়ো লুই সান্তোস ডি কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। জাতীয় যুদ্ধস্মারকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং জাতীয় পতাকা উন্মোচনের পর ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সামরিক শক্তির আস্ফালন ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রদর্শন
এবারের কুচকাওয়াজে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়।
- ট্যাঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্র: কর্তব্যপথ ধরে এগিয়ে যায় টি-৯০ ভীষ্ম এবং মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক অর্জুন। এছাড়া প্রদর্শিত হয় ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবং সূর্যাস্ত্র রকেট লঞ্চার সিস্টেম।
- বায়ুসেনার দাপট: ফ্লাইপাস্টের বিশেষ আকর্ষণ ছিল গত মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আদলে তৈরি রণসজ্জা। রাফাল, মিগ-২৯, সুখোই-৩০ এবং জাগুয়ারসহ মোট সাতটি যুদ্ধবিমান তেরঙা পতাকা নিয়ে দিল্লির আকাশে দাপিয়ে বেড়ায়।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও বাংলার ট্যাবলো
কুচকাওয়াজে বিভিন্ন রাজ্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।
- থিম: সংস্কৃতি মন্ত্রকের বিশেষ ট্যাবলোর থিম ছিল ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর’।
- পশ্চিমবঙ্গ: বাংলার ট্যাবলোয় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালিদের বলিদানের গৌরবময় ইতিহাস নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।
মোদীর নয়া ভূমিকা: ভিনদেশি অতিথিদের ধারাভাষ্যকার
এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ। গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে তিনি ভিনদেশি অতিথিদের ভারতের সংস্কৃতি ও সামরিক কুচকাওয়াজ নিয়ে নিবিড়ভাবে ব্যাখ্যা দেন। দোভাষীদের সাহায্যে ইউরোপীয় নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর থেকে ভারতের বৈচিত্র্যের গল্প আগ্রহভরে শোনেন।
কূটনৈতিক গুরুত্ব
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতার এই সফর ভারতের সাথে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২৭ জানুয়ারি ভারত-ইইউ সম্মেলনে বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি নতুন নতুন ক্ষেত্রে অংশীদারি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

