সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী যখন কর্তব্যপথে পৌঁছান, তখন তাঁর পরনে ছিল গাঢ় নীল রঙের কুর্তা, সাদা চুড়িদার এবং হালকা আকাশী রঙের নেহরু জ্যাকেট। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তাঁর বাহারি রেশমি পাগড়িটি।
- নকশা ও তাৎপর্য: পাগড়িটি ছিল উজ্জ্বল রঙের ‘টাই অ্যান্ড ডাই’ কাপড়ের। এতে সোনালি জরির সুতোয় ময়ূরের পালকের মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ময়ূরের পালককে অনেকেই শ্রীকৃষ্ণের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।
- শৈলী: পাগড়িটি বাঁধার ধরন ছিল রাজস্থানের যোধপুরী ঘরানার। এর একদিকে কাপড়ের স্তর বিন্যাস এবং অন্যপ্রান্তে কোমর পর্যন্ত দীর্ঘ ঝুলন্ত কাপড় রাজস্থানি ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
বিগত বছরগুলোর ট্রেন্ড: গুজরাত ও রাজস্থানের প্রভাব
গত ১০ বছরের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণতন্ত্র দিবস বা স্বাধীনতা দিবসে নিজের রাজ্য গুজরাত অথবা প্রতিবেশী রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী শিরোসজ্জাকেই বেছে নিয়েছেন।
| বছর | পাগড়ির ধরন/শৈলী | বিশেষত্ব |
| ২০২৫ | টাই অ্যান্ড ডাই (রেশম) | ময়ূর মোটিফ ও যোধপুরী শৈলী। |
| ২০২৪ | বাঁধনি পাগড়ি | রাজস্থান ও গুজরাতের ঐতিহ্যবাহী শিল্প। |
| ২০২৩ | লেহরিয়া পাগড়ি | হলুদ ও গেরুয়া রঙের মিশ্রণ। |
| ২০২২ | উত্তরাখণ্ডী টুপি | ব্যতিক্রমী বছর (উত্তরাখণ্ড নির্বাচনের প্রেক্ষাপট)। |
| ২০২১ ও পূর্বে | কোটা বা বাঁধনি | গেরুয়া ও উজ্জ্বল রঙের প্রাধান্য। |
সাংস্কৃতিক বার্তা ও দীর্ঘ ঐতিহ্য
২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে লেহরিয়া, কোটা বা বাঁধনির মতো উজ্জ্বল ও রঙিন পাগড়ি পরেছেন। মাঝে ২০২২ সালে উত্তরাখণ্ডী টুপি পরাকে অনেকেই সেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছিলেন। তবে গত চার বছর ধরে তিনি ফের পশ্চিম ভারতের (রাজস্থান ও গুজরাত) লোকশিল্পকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
এ বছর তাঁর পাগড়িতে দলীয় রঙ ‘গেরুয়া’-র অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, সামগ্রিকভাবে তাঁর সাজে ভারতের বহুত্ববাদ ও উজ্জ্বল রঙের সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, প্রতি বছর এই শিরোসজ্জার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ভারতের লোকশিল্পীদের কাজকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি করেন।

