রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভাষায় শাসকদলকে আক্রমণ শানালেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র খাঁ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার উন্নয়নের বদলে ‘চুরি’ এবং ‘তোষণ’কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে রাজ্যে ৩৫৫ ধারা জারি করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার বাঁকুড়া শহরে তালড্যাংরা বিধানসভা কেন্দ্র সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে সৌমিত্র খাঁ তৃণমূলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ
তালড্যাংরার স্থানীয় বিধায়ক ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে সাংসদ বলেন:
- আর্থিক দুর্নীতি: তালড্যাংরার তৃণমূল বিধায়ক সাধারণ মানুষের টাকা নয়ছয় করেছেন।
- নিরাপত্তাহীনতা: এলাকায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন তিনি।
- স্বাস্থ্য পরিকাঠামো: তালড্যাংরা গ্রামীণ হাসপাতালের বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি জানান, হাসপাতালের ভেতরে বিষাক্ত সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা রোগীদের প্রাণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তোষণ ও উন্নয়নের বাধা
রাজ্য সরকারের নীতি ও রেল প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করেন সৌমিত্র খাঁ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী:
“রাজ্য সরকার আইটি সেক্টরের চেয়ে মাদ্রাসাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এখন মাদ্রাসার মূর্তিতে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দৌড়াচ্ছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জমি জট ও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেল প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে থমকে রয়েছে। পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এটি চুরির সুযোগ করে দেওয়ার একটি মাধ্যম মাত্র।
“তৃণমূলের ডিএনএ-তে চুরি”
তৃণমূল নেতাকর্মীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে সাংসদ বলেন, “চুরি তৃণমূলের মজ্জায় মিশে গেছে। তাদের কাছে চুরি করাটাই যেন এক প্রকার মানবধর্মে পরিণত হয়েছে।” এসআইআর (SIR) শুনানিতে বাংলাদেশিদের অনুপস্থিতি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে আগামী নির্বাচনে মানুষ বিজেপির পাশেই থাকবেন বলে দৃঢ় আশাপ্রকাশ করেন সৌমিত্র খাঁ।

