নতুন বছরের প্রথম মাসেই জোড়া জনসভা করতে পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একটি উত্তরবঙ্গে, অন্যটি দক্ষিণে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে চূড়ান্ত সফরসূচি পাঠানো হয়নি বলে রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সভার বিষয়ে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু বিজেপি সূত্রের খবর, জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে মোদীর সভা আয়োজনের জন্য দুই বঙ্গেই সাংগঠনিক বার্তা পৌঁছে গিয়েছে।
১৭ এবং ১৮ জানুয়ারি, পর পর দু’দিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসভার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। প্রথমটি অর্থাৎ ১৭ জানুয়ারির সভাটি হবে মালদহ জেলায়। আর দ্বিতীয়টি অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারির সভা হবে হাওড়া বা হুগলি জেলায়। রাজ্য বিজেপির একাংশ চাইছে, হুগলির সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আয়োজন হোক। সিঙ্গুর আন্দোলনকে তৃণমূল নিজেদের উত্থানের অন্যতম কারণ হিসাবে তুলে ধরে। তার বিপরীতে বিজেপি ও বামেরা এক সুরে অভিযোগ করে থাকে যে, সিঙ্গুর থেকে টাটার বিদায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন সম্ভাবনায় ইতি টেনে দিয়ে গিয়েছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে শিল্প তথা বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বার বার দিচ্ছে। সেই বার্তাই প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে দিলে তার রাজনৈতিক তাৎপর্য বেশি হবে বলে বিজেপির একাংশের মত। তবে হাওড়া জেলার বিজেপি নেতারা তাঁদের জেলাতেই প্রধানমন্ত্রীর সভা আয়োজনের পক্ষে। তাঁদের যুক্তি, হাওড়াও এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পীঠস্থান ছিল, যা বাম আমল থেকেই ‘শ্মশানে’ পরিণত হতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শিল্পের পুনরুজ্জীবনের বার্তা দিতে চাইলে, হাওড়ার মতো শহর থেকেও তা দেওয়া যেতে পারে।
মালদহের জনসভা কোন এলাকায় বা কোন মাঠে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরা মাঠ পরিদর্শন করে তা চূড়ান্ত করবেন। তবে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার হাওড়া এবং হুগলিতে বিজেপি নেতৃত্ব বেশ কয়েকটি মাঠ পরিদর্শন করতে পারেন।
গত ডিসেম্বরের ২০ তারিখে নদিয়া জেলার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ছিল। প্রধানমন্ত্রী কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে তাহেরপুর রওনাও দেন। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা না-থাকায় প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার তাহেরপুরে নামতে পারেনি। তিনি বিমানবন্দরে ফিরে অডিয়ো ব্রিজ কলের মাধ্যমে তাহেরপুরে উপস্থিত জমায়েতের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাড়াতাড়িই আবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবেন। ১৭ এবং ১৮ জানুয়ারির সভা যদি পিছিয়ে না-যায়, তা হলে সেই প্রতিশ্রুতির পরে এক মাস কাটার আগেই প্রধানমন্ত্রী ফের পশ্চিমবঙ্গে আসছেন।

