আপস করেননি, বরং মন যা চেয়েছে সেটাই করেছেন। TCS-র মতো সংস্থায় চাকরি ছাড়তেও দু’বার ভাবেননি মণীশ কুমার। এখন বন দফতরের বিট অফিসারের পদে কর্মরত তিনি। নিজের শহরেই সরকারি চাকরি।
ঝাড়খণ্ডের দুমকার জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে মণীশ। কলকাতায় TCS-এ চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। ছেলের সাফল্য খুশি হয়েছিলেন পরিবারের লোকেরা। ভেবেছিলেন, কেরিয়ারের জন্য দারুণ সুযোগ। কিন্তু সেই ছেলেই যে একমাস পর চাকরি ছেড়ে দেবেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। কিন্তু হয়েছিল সেটাই। এবার সরকারি চাকরির প্রস্তুতি শুরু করেন মণীশ।
প্রায় ৬ বছর পার। বন দফতরের বিট অফিসারের চাকরি করছেন মণীশ। পোস্টিং দুমকার কাছেই। পরিবারের কাছাকাছি যেমন থাকতে পারছেন, তেমনি প্রকৃতিক সান্নিধ্য থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে না। মণীশ জানান, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আইটি সেক্টরের জীবন আমার জন্য নয়। কোনও মানসিক শান্তি ছিল না’।
বাবা বন দফতরের চুক্তিভিত্তিক কর্মী। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে জঙ্গলে অভিযান যেতেন মণীশ। তখন থেকে বন ও বন্যপ্রাণের মতো ভালোবাসা তৈরি হয়। গ্র্যাজুয়েট হওয়ার বেশ কিছুদিন একটি বেসরকারি সংস্থার চাকরি করেন তিনি। তারপর সুযোগ পান TCS-এ। ওই যুবক বলেন, ‘তখন অতটা ভাবিনি। কিন্তু একমাসের মধ্যে বুঝতে পেরেছিলাম, এটা আমার জন্য নয়। আমি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইছিলাম’। তবে TCS-র কম বেতন যে বিকল্পের কথা ভাবার অন্যতম কারণ, তাও জানিয়েছেম মণীশ।
মাত্র ছয় মাস প্রস্তুতি নিয়েও ফরেস্ট গার্ডের পরীক্ষায় পাস করেন মণীশ। ছেলের সিদ্ধান্ত আগাগোড়া পাশে ছিলেন মণীশের বাবা-মা। কোনও আক্ষেপ নেই। মণীশ বলছেন, ‘কর্পোরেট চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তে অত্যন্ত খুশি। আমি সবসময় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চেয়েছি এবং সমাজসেবা করতে চেয়েছি। এই চাকরি আমাকে সেই সব সুযোগই করে দিয়েছে’। গত ৬ বছরে বিট অফিসার হিসেবে যে শুধু বন্যপ্রাণী রক্ষা বা অপরাধ দমন করেছেন, তা কিন্তু নয়। দুর্গম এলাকায় আদিবাসীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন মণীশ। তাঁকে ওই অঞ্চলের পর্যটন উন্নয়নের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের মসাঞ্জোর বাঁধের তীরে অবস্থিত সরকারি ইকো-ট্যুরিজম রিসোর্টটি পরিচালনা করছেন মণীশই।

