‘পরীক্ষাকে উৎসব হিসেবে নাও, নিজের ওপর ভরসা রাখো’: ‘পরীক্ষা পে চর্চা’য় পড়ুয়াদের গুরুমন্ত্র প্রধানমন্ত্রীর

‘পরীক্ষাকে উৎসব হিসেবে নাও, নিজের ওপর ভরসা রাখো’: ‘পরীক্ষা পে চর্চা’য় পড়ুয়াদের গুরুমন্ত্র প্রধানমন্ত্রীর

পাঠ্যপুস্তক আর জীবন—উভয় পরীক্ষাতেই সফল হওয়ার দাওয়াই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নবম ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে প্রথাগত রাজনীতিকের খোলস ছেড়ে এক স্নেহশীল শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তিনি। পড়ুয়াদের মনোবল বাড়াতে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “পরীক্ষা কোনো ভয়ের বিষয় নয়, একে উৎসবের মতো উপভোগ করো।”

এবারের অনুষ্ঠানটি পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রায় সাড়ে চার কোটি পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবক প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ পেতে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছিলেন।

লক্ষ্য ও আত্মবিশ্বাসের পাঠ

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের উদ্দেশে একটি ‘পেপ টক’ দেন। তিনি বলেন, “মা-বাবা বা শিক্ষকরা যাই বলুন না কেন, আগে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শেখো। নিজের পড়াশোনার ধরন বা প্যাটার্নকে গুরুত্ব দাও।” তিনি পরামর্শ দেন যে লক্ষ্য এমন হওয়া উচিত যা সহজেই অর্জনযোগ্য নয়, বরং যা অর্জনে পরিশ্রম করতে হয়। শিক্ষকদের চেয়ে সবসময় এক ধাপ এগিয়ে থাকার মানসিকতা তৈরির ডাক দেন তিনি।

নিজস্ব ছন্দ ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

গুজরাটের এক পড়ুয়া ভিন্ন ভিন্ন মানুষের উপদেশে বিভ্রান্ত হওয়ার কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “প্রত্যেক পড়ুয়ার নিজস্ব তাল ও ভঙ্গি থাকে। কেউ সকালে ভালো পড়ে, কেউ রাতে। নিজের ছন্দে ভরসা রাখো।” অন্যদের সঙ্গে তুলনা না করে বরং নিজের স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এমনকি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, এমন পরিস্থিতি তাঁর সঙ্গেও হয়েছে।

দক্ষতা বনাম নম্বর: ভারসাম্যের মন্ত্র

পরীক্ষায় ভালো নম্বর নাকি দক্ষতা—কোনটি বেশি জরুরি? এই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তরে মোদী জানান, দুটির মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হলো আসল পাণ্ডিত্য। তিনি বলেন:

  • পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে: শুধু বই পড়ে নম্বর পাওয়া নয়, নিজের শখ (Hobby) পূরণ এবং জীবনমুখী দক্ষতা বাড়ানোই উন্নতির পথ।
  • ব্যবহারিক শিক্ষা: ট্রেনের টিকিট কাটা বা রান্না করার মতো ছোট ছোট কাজও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্কিল।
  • জীবনশৈলী: শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন, সুস্বাস্থ্য এবং ভালো কথা বলার দক্ষতা (Communication Skill) অর্জনে জোর দেন তিনি।

শিক্ষকদের জন্য বিশেষ টিপস

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ানোর গতি এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পড়ুয়ারা আগ্রহী হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইতিহাসের একটি অধ্যায় পড়ানোর সময় পরের দিন কী পড়ানো হবে তার একটি আভাস আগে থেকে দিয়ে রাখলে পড়ুয়ারা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারবে।

ডিজিটাল আসক্তি ও অনলাইন গেমিং নিয়ে সতর্কতা

বর্তমান প্রজন্মের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেটের ব্যবহার নিয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন:

“ভারতে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি এখন সস্তা। কিন্তু সস্তা বলে তা অপচয় করো না। নিজের প্রয়োজন ও লাভের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করো।”

বিশেষ করে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার গেম থেকে পড়ুয়াদের দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। গেমিংকে একটি দক্ষতা হিসেবে স্বীকার করলেও, তার নেশায় পড়ে সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানান।

সবশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, জীবনটা শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক নয়। কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই এবং শিক্ষাকে জীবনের উন্নতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.