রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যে নামগুলি নির্ধারিত পদ্ধতিতে ইতিমধ্যে যাচাই করা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই এই তালিকা প্রকাশিত হবে।
দ্বিতীয় দফার সুযোগ ও আইনি স্বচ্ছতা
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া আটকে রাখা যাবে না। তবে এই তালিকাটিই শেষ কথা নয়। আদালত জানিয়েছে:
- প্রথম দফায় প্রকাশিত তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
- পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নতুন নাম সংযোজন বা সংশোধনের পথ খোলা রাখা হবে।
ইআরও নয়, নথি যাচাই করবেন বিচারকেরা
তথ্যগত অসঙ্গতি মেটাতে এদিন এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এবার থেকে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাইয়ের কাজ ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) করবেন না। পরিবর্তে এই দায়িত্ব পালন করবেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকেরা।
- সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানাবে যাতে প্রতিটি জেলায় কয়েকজন কর্মরত বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারক নিয়োগ করা হয়।
- এই বিচারকদের তত্ত্বাবধানেই ভোটারদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে।
- কাজে সহায়তা করবেন নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের মনোনীত কর্মীরা।
শনিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
জটিলতা কাটাতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে শনিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO), মুখ্যসচিব এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ডিজি-কে কড়া সতর্কবার্তা
ভোটার তালিকা সংশোধনের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। শুনানিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে:
- নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলার অবনতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
- পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বা পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ না করলে রাজ্যের পুলিশ ডিজি-কে (DG) কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
- প্রয়োজনে ডিজি-কে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে জবাবদিহি করতে হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে চলা টানাপোড়েন অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিচারকদের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে এই কাজ সম্পন্ন হলে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা কাটবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।

