পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলেই এবার উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রার প্রধান দুই তীর্থক্ষেত্র— বদরীনাথ ও কেদারনাথে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। বুধবার শ্রী গঙ্গোত্রী মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্দির পরিচালন বোর্ডের বৈঠকে এই মর্মে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে। কেবল এই দুই ধাম নয়, গঢ়বালের আরও ৪৫টি শতাব্দীপ্রাচীন মন্দিরেও একই নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে।
আদি শঙ্করাচার্যের প্রথা ও সাংবিধানিক যুক্তি
বদরীনাথ-কেদারনাথ টেম্পল কমিটির (BKTC) বোর্ড সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদীর সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বিবেদী জানান, এই নিয়ম নতুন কিছু নয়; আদি শঙ্করাচার্যের সময় থেকেই কেদার-বদরীর গর্ভগৃহে অ-হিন্দুদের প্রবেশ সীমিত রাখার প্রথা চলে আসছে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া যুক্তিগুলি হলো:
- পর্যটন বনাম বিশ্বাস: বদরীনাথ ও কেদারনাথ কেবল পর্যটন কেন্দ্র নয়, এগুলি বৈদিক আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র।
- সংবিধানের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ: ভারতীয় সংবিধানের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিষয় ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার দেওয়া হয়েছে। বোর্ড মনে করে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সাংবিধানিক অধিকারই প্রয়োগ করা হয়েছে।
১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর নতুন বিধি
আগামী মাস থেকেই উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রার মরসুম শুরু হচ্ছে। তীর্থযাত্রার শুরু থেকেই এই নতুন নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ করা হবে।
- যাত্রার নির্ঘণ্ট: * ১৯ এপ্রিল (অক্ষয় তৃতীয়া): গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দিরের দ্বার খোলার মাধ্যমে যাত্রার সূচনা।
- ২২ এপ্রিল: কেদারনাথ ধামের দ্বার উদ্ঘাটন।
- ২৩ এপ্রিল: বদরীনাথ ধামের দরজা সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

