যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজে সেজে উঠেছে হুগলি জেলার কামারপুকুর। পুণ্যভূমি কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মভিটে এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার ভক্ত সমবেত হয়েছেন।
মঙ্গল আরতি ও উৎসবের সূচনা
এদিন ভোর ৪টে ৩০ মিনিটে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে শ্রীরামকৃষ্ণের ‘মঙ্গল আরতি’র মাধ্যমে জন্মতিথি উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের মূল বসতবাটি, যা আজও মাটির ঘর হিসেবে সযত্নে রক্ষিত, সেখানেও বিশেষ পূজার্চনা ও পাঠের আয়োজন করা হয়। ভক্তদের দীর্ঘ লাইন পরিলক্ষিত হয় জন্মস্থানে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের জন্য।
বর্ণাঢ্য ও সুসজ্জিত শোভাযাত্রা
জন্মতিথি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এক বিশাল ও সুসজ্জিত শোভাযাত্রা। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন থেকে এই শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে সমগ্র কামারপুকুর এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
- অংশগ্রহণকারী: শোভাযাত্রায় পা মেলান মঠের সন্ন্যাসীরা। তাঁদের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং অগণিত সাধারণ ভক্ত এই পরিক্রমায় অংশ নেন।
- শোভাযাত্রার রূপরেখা: সুসজ্জিত ট্যাবলো, সংকীর্তন এবং শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শোভাযাত্রাটিকে এক অনন্য রূপ দান করে।
দেশ-বিদেশের ভক্ত সমাগম
শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবধারায় বিশ্বাসী ভক্তরা কেবল রাজ্য বা দেশ থেকেই নয়, বিদেশ থেকেও এদিন কামারপুকুরে হাজির হন। বিশেষ দিনটি উদযাপনে মঠের পক্ষ থেকে ভক্তদের জন্য বিশেষ ভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিনভর ধর্মীয় আলোচনা, ভজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের পরবর্তী পর্যায়গুলো অতিবাহিত হবে।
যুগাবতারের জন্মস্থানে এই বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে পূজার্চনা ও শোভাযাত্রা পরিচালনার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক।

