জোড়াতালি দিয়ে লিগ আয়োজনের চেষ্টা, ক্ষতির বহর কমাতে ফুটবলারদের বেতন কাটছাঁটের পথে হাঁটছে আইএসএলের একাধিক ক্লাব

কয়েক মাস ধরে অনিশ্চয়তা চলার পর অবশেষে আইএসএল শুরু হওয়ার দিন ক্ষণ ঘোষণা হয়েছে। তবে ক্লাবগুলি পড়েছে বিপদে। একে তো লিগ এখনও শুরু না হওয়ায় ক্ষতির বহর বেড়েই চলেছে। তার উপর ক্লাবগুলিকেই ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব নিতে হওয়ায় আগামী দিনে ক্ষতি আরও বাড়বে। এই অবস্থায় কম বেতন নেওয়ার জন্য ফুটবলারদের কাছে অনুরোধ করেছে একাধিক ক্লাব।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর খবর অনুযায়ী, একাধিক ক্লাব ফুটবলারদের অনুরোধ করেছে যাতে তাঁরা ২৫ শতাংশ কম বেতন নেন। আইএসএলের নতুন কাঠামোয় গত বারের থেকে ৭২টি ম্যাচ কম হচ্ছে। তার উপর সম্প্রচারস্বত্ব থেকেও এ বার কোনও লাভ হচ্ছে না। বাধ্য হয়েই ফুটবলারদের কাছে এমন প্রস্তাব রাখতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক ক্লাবের কর্তা।

কিছু ক্লাব ফুটবলারদের সরাসরি হ্যাঁ বা না-তে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কোনও ধরনের আলোচনার রাস্তায় হাঁটতে রাজি নয় তারা। আবার কয়েকটি ক্লাব শুধু অনুরোধ করেছে ফুটবলারদের কাছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ছেড়েছে ফুটবলারদের হাতেই।

কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৪টি ক্লাবই আইএসএল খেলবে। ফলে ওড়িশা-র মতো যে দু’-একটি ক্লাব লিগ খেলতে খুব একটা ইচ্ছুক ছিল না, তারাও খেলবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু আয়োজনের এত খরচ সামাল দেওয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি তাদের নেই। অন্য জায়গা থেকে খরচ কাটছাঁট করতে চাইছে তারা।

সাধারণত আইএসএলের ক্লাবগুলি ৭০ শতাংশ টাকা খরচ করে ফুটবলারদের বেতন দিতে। সর্বোচ্চ খরচের সীমা ১৬.৫ কোটিতে বেঁধে দেওয়া হলেও মোহনবাগানের মতো অনেক ক্লাবই তার চেয়ে প্রচুর বেশি অর্থ খরচ করে। দেশীয় ফুটবলার কিনতেও অনেক খরচ হয়। অনেকেই কোটি টাকার বেশি পান।

এক ক্লাবের কর্তা জানিয়েছেন, এর আগে সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া ২৭৫ কোটি টাকার কিছু অংশ পেত ক্লাবগুলি। এ বার সেটি পাওয়া যাবে না। নিজেদের পকেট থেকে সব খরচ মেটাতে হবে। এই পরিস্থিতিতে সব ফুটবলারকে পুরো বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। তাই যাতের বেতন এক কোটির বেশি, তাদের ২৫ শতাংশ কম টাকা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। যাদের কোটির কম বেতন, তাদের ১৫-২০ শতাংশ বেতনহ্রাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.