হরিদ্বারের মারকুটে বাঁ-হাতি উইকেটকিপার-ব্যাটারকে এই কিছুদিন আগেও ভারতীয় দল তিন সংস্করণেই অপরিহার্য ভাবছিল। কিন্তু ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে ফেরা ক্রিকেটারের বাইশ গজে কামব্যাক কিন্তু মোটের উপর সুখকর হল না। কথা হচ্ছে টিম ইন্ডিয়ার স্টার ঋষভ রাজেন্দ্র পন্থকে নিয়ে (Rishabh Pant)।
চোট-আঘাতের চক্রেই ঋষভ!
চোট-আঘাতের কারণে ধারাবাহিক ভাবে ফর্ম হারিয়ে ফেলা ঋষভও ধীরে ধীরে দলে ব্রাত্য হতে থাকলেন। বছর দুয়েক আগে টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ যোদ্ধা এবার আর টি-২০ বিশ্বকাপের দলে জায়গাই পেলেন না। এমনকী এই মুহূর্তে বিসিসিআইয়ের অন্দরমহলের খবর যে, পন্থ নাকি আর ওডিআই দলের পরিকল্পনাতেও নেই! তাহলে কি গাবার নায়ক শুধুই লাল বলের ক্রিকেট খেলবেন? নাকি এভাবেই ধীরে ধীরে তাঁর ভারতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে!
ভারতের ওডিআই দলের পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্য রদবদল হতে চলেছে! নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন তিন ম্যাচের হোম সিরিজের দল থেকে পন্থ বাদ পড়ছেন বলেই এখন খবর! নির্বাচক কমিটির ঘনিষ্ঠ সূত্র এমনটাই জানিয়েছে এক সর্বভারতীয় মিডিয়াকে। পন্থহীন ভারতীয় ওডিআই দল এক নতুন দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে। টিম ম্যানেজমেন্ট ২০২৫-২৬ মরসুমের শেষ হোম সিরিজের আগে ফর্ম এবং দলের ভারসাম্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
পন্থের পরিবর্তে তাহলে কে?
ঈশান কিষানকে এখন পন্থের পরিবর্ত হিসেবে ভাবা হচ্ছে। দু’ বছরেরও বেশি সময় পর ওডিআই দলে ফেরার জন্য সম্ভবত সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন তিনিই। ঈশান শেষ ওডিআই খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর। দিল্লিতে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ওডিআই বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নেমে ৪৭ বলে ৪৭ করেছিলেন তিনি। পাটনার ২৭ বছরের বাঁ-হাতি উইকেটকিপার-ব্যাটার নবজীবন পেয়েছে চলতি বছর সৈয়দ মুসতাক আলি ট্রফিতে। ৫৭.৪৪-র গড়ে ও ১৯৭-এর স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে ৫১৭ রান করেছিলেন। ছিল ফাইনালে ট্রফি জেতানো শতরানও। টুর্নামেন্টের সর্বাধিক রানশিকারি হওয়ার সঙ্গেই আরও এক নজির গড়েন ঈশান। ১৯ বছরের সৈয়দ মুসতাক আলির ইতিহাসে ঝাড়খণ্ডকে প্রথম এই ট্রফি জেতান ঈশান। আর এরপরেই তাঁকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ঈশানকেই নেতৃত্ব দিয়েছে ঝাড়খণ্ড। সৈয়দ মুসতাক আলির ফর্মেই আছেন তিনি। গত ২৪ ডিসেম্বর কর্ণাটকের বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেন — যা কোনও ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি।
ঈশান ছাড়া আর কোন কোন বিকল্প
ঈশানের কিন্তু তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাও রয়েছে দলে। তাঁর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন জিতেশ শর্মা। মনে করা হচ্ছে ৩২ বছরে ওডিআই ডেবিউ করতে পারেন তিনি। জিতেশ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিনিশিং ক্ষমতা এবং মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতার মাধ্যমে মুগ্ধ করেছেন। যদিও তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি, কারণ নির্বাচকরা তাঁর পরিবর্তে ঈশান এবং সঞ্জু স্যামসনকে বেছে নিয়েছে।
শুভমন এবং শ্রেয়সের কী গল্প?
ঘাড়ের চোট সারিয়ে ভারতের ওডিআই ও টেস্ট অধিনায়ক কিউয়িদের বিরুদ্ধে ফিরতে প্রস্তুত। চোটের কারণে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনে ব্যাটিং অর্ডারের শীর্ষস্থানে আবারও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যে ভূমিকা যশস্বী জয়সওয়াল পালন করেছিলেন। জয়সওয়াল এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সিরিজে তাঁর প্রথম ওডিআই সেঞ্চুরিও করেন।মিডল-অর্ডার স্টার শ্রেয়স আইয়ার এই মুহূর্তে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে অনুশীলন শুরু করেছেন, তবে তার দলে অন্তর্ভুক্তি চূড়ান্ত মেডিক্যাল ছাড়পত্রের উপরই নির্ভর করবে, এবং আসন্ন সিরিজের জন্য তাঁর উপলব্ধতা মূল্যায়নের অধীনে থাকবে। তবে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিল এবং আইয়ার অনুপস্থিত থাকায়, কেএল রাহুল ওডিআই দলের দায়িত্ব নেন এবং ভারতকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতিয়েছিলেন। এখন গিল দলে ফিরে আসায়, নিউ জিল্যান্ড সিরিজের জন্য নেতৃত্ব কাঠামো তার মূল রূপে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

