পুলিশের যুক্তি সঠিক, নবান্নের সামনে নয়! শর্ত দিয়ে বিকল্প জায়গায় ধর্নার নির্দেশ কোর্টের, ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে বিজেপি

নবান্নের সামনে বিজেপিকে মিছিল, ধর্নার অনুমতি দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, প্রত্যেকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। নবান্ন উচ্চ স্তরের নিরাপত্তার মধ্যে পড়ে। সেখানে বিজেপিকে কর্মসূচি করতে না-দেওয়া নিয়ে পুলিশ যে যুক্তি দিয়েছে, তার তাৎপর্য রয়েছে। বিকল্প জায়গায় বিজেপিকে কর্মসূচি করার অনুমতি দিয়েছে আদালত। হাই কোর্ট জানিয়েছে, দেড় কিলোমিটার দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে ওই কর্মসূচি করা যাবে। সেখানে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ধর্না দেওয়া যাবে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘বুক ফুলিয়ে’ নবান্নের সামনে ধর্না দিতে চান তাঁরা। হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়ের বিরুদ্ধে তাই বিজেপি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

বিজেপিকে ধর্নার জন্য বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে হাই কোর্ট। তাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিধায়কের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ জনের বেশি হবে না। ধর্নার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল বা যানবাহনের গতি কোনও ভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। ধর্নায় উসকানিমূলক বক্তব্য বা গালিগালাজমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। কর্মসূচিতে কোনও মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দদূষণ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোর ভাবে মানতে হবে। কমপক্ষে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম এবং মোবাইল নম্বর দ্রুত পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে। এই স্বেচ্ছাসেবকেরাই ধর্নাকালীন যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দায়ী থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করবে। ধর্না শেষ হওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যেই অংশগ্রহণকারীদের সম্পূর্ণ ভাবে স্থান ত্যাগ করতে হবে। ধর্নাস্থলকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনও অস্থায়ী কাঠামো থাকলে সেটিও ওই সময়ের মধ্যেই সরিয়ে ফেলতে হবে।

শুভেন্দু জানান, ডিভিশন বেঞ্চর দ্বারস্থ হবে বিজেপি। তাঁর কথায়, ‘‘লড়াই করব। নবান্নের পিছনে বসে ধর্না দেব না। ২০০ মিটার দূরে হলেও নবান্নের সামনে ধর্না দেব। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।’’ হাই কোর্টের দেওয়া বাকি শর্ত মেনে নেবেন বলেও জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘লাউড স্পিকার ব্যবহার করব না। হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করব। দু’ঘণ্টা হলেও নবান্নের সামনে ধর্না দেব। শঙ্কর ঘোষ ডিভিশন বেঞ্চে যাবেন।’’ সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিল তৃণমূল। সেই প্রসঙ্গও তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা চোরের মতো গেছিল কর্তব্য ভবনে (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দফতর)। আমরা বুক ফুলিয়ে যেতে চাই দিনের আলোয়।’’

নবান্নের সামনে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর নেতৃত্বে ধর্নায় বসতে চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। আগামী ১৬ জানুয়ারি ওই কর্মসূচি করতে চায় তারা। তার পরের দিনই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আইনজীবী মারফত হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিজেপি নেতা তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক, বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ। মামলাকারী পক্ষের বক্তব্য ছিল, পুলিশ তাদের নবান্নের সামনে ধর্নায় বসার অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি। তার প্রতিবাদে গত শুক্রবার ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ তৃণমূলের আট জন সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের দফতরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। ঘণ্টা দেড়েক বিক্ষোভ চলার পরে পুলিশ তাঁদের জোর করে তোলার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে গিয়েছিল। উত্তেজনা ছড়িয়েছিল শাহের দফতরের সামনে।

এর আগে গত বছরের অগস্টে নবান্ন অভিযান হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন আরজি করে নির্যাতিতার বাবা-মা। তবে বাস্তবে তা এক প্রকার বিজেপির নবান্ন অভিযান হয়ে উঠেছিল। সেই বারও বিক্ষিপ্ত কিছু উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। যদিও পুলিশি ব্যারিকডের কারণে নবান্নের ধারেকাছেও পৌঁছোতে পারেননি কর্মসূচিতে যোগদানকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.