ছাত্রনেতা ওসমান হাদির খুনিরা এখন কোথায়, এটাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন ছিল। ১২ ডিসেম্বর ওই খুনে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিমকে ধরতে পারেনি পুলিস। এনিয়ে চাপ বাড়ছিল ইউনূস সরকারের উপরে। সেই চাপ কমতে আজ বাংলাদেশ দাবি করে, ওসমান হাদির খুনি ও তার এক সঙ্গী ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে মেঘালয়ে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের সেই দাবি উড়িয়ে দিল ভারত।
মেঘালয় পুলিসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল হাদির খুনি ফয়সাল করিম ও তার সঙ্গী আলমগীর সেখ যে মেঘালয়ে ঢুকেছে বলে বাংলাদেশ দাবি করছে তার কোনও ভিত্তি নেই।
রবিবার রবিবার ঢাকা পুলিসের পুলিস কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, ওসমান হাদি খুনে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। পাশাপাশি তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে ভারতের পুলিস। হাদির হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত। মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার এক সঙ্গী ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে মেঘালয়ে চলে গিয়েছে। হাদি খুনের ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তদন্তের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে।’
এনিয়ে মেঘালয় পুলিসের তরফে আজ বলা হয়, বাংলাদেশের তরফে এরকম কেনাও খবর দেওয়া হয়নি। ওই নামের কোনও অভিযুক্ত গারো হিলসে ধরা পড়েনি। এরকম নামের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মেঘালয় পুলিসের পাশাপাশি বিএসএফের আইজি ওপি উপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে বলেন, হালুয়াঘাট সেক্টরে কোনও সীমান্ত পার করার ঘটনা ঘটেনি। এরকম দাবি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
উল্লেখ্য, এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার পল্টন এলাকায় গত ১২ ডিসেম্বর হাদিকে গুলি করার পর শ্যুটার ফয়সাল ও তার সঙ্গী আলমগীর ঢাকা থেকে সিএনজির অটোয় আমিনাবাজার যান। সেখান থেকে কালামপুর ও কালামপুর থেকে ময়মনসিংহ চলে যায়। সেখানে তাদের সীমান্ত পার করতে সাহায্য করে ফিলিপ পাল ও সঞ্জয়। তারা ফয়সাল ও আলমগীরকে মেঘালয়ে পৌঁছে দেয়।
নজরুল ইসলামের পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিসের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই খুনের নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সবার নাম বলা যাচ্ছে না। এখনওপর্যন্ত এটিকে রাজনৈতিক খুনই বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন থেকে ওসমান হাদি যখন সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন সেইসময় মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী বাইক থেকে হাদিকে গুলি করে। হাদিকে ঢাকার এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুতে খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার দেশজুড়ে অবরোধের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

