পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের হদিস মেলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, নেপাল ও তাইওয়ানের বিমানবন্দরগুলোতে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে কোভিড আমলের মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম ফেরানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে কড়া নজরদারি
থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, সে দেশে এখনও পর্যন্ত কেউ নিপা আক্রান্ত হননি। তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে সুবর্ণভূমি, ডন মুইয়াং এবং ফুকেত বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের জ্বর বা সংক্রমণের উপসর্গ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো যাত্রীর মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত নিভৃতবাসে (Isolation) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দর এবং ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছেন সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশ বুধাথোকি। তাইওয়ান কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারির পরিকল্পনা করছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আশ্বাস
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়ালেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল’ (NCDC)-এর তথ্য অনুযায়ী:
- গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ২ জন নিপা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে।
- আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনকে চিহ্নিত করে পরীক্ষা করা হয়েছিল, যাদের প্রত্যেকের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
- মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, বর্তমানে নতুন করে কোনো সংক্রমণের খবর নেই এবং সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে কেবল সরকারি তথ্যে ভরসা রাখতে বলা হয়েছে।
নিপা ভাইরাস: লক্ষণ ও সতর্কতা
নিপা মূলত পশু (বিশেষত বাদুড়) থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। বাদুড়ের খাওয়া ফল, কাঁচা খেজুরের রস বা সংক্রমিত গবাদি পশুর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বরের পাশাপাশি:
- তীব্র শ্বাসকষ্ট
- স্নায়ুর সমস্যা ও খিঁচুনি
- এনসেফেলাইটিসের মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে ফল ধুয়ে খাওয়া এবং কাঁচা রস পানের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

