টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে পাকিস্তানের বিদায় ঘিরে এমনিতেই উত্তাল সে দেশের ক্রিকেট মহল। এবার সেই ক্ষোভে ঘৃতাহুতি দিলেন খোদ পাকিস্তানের নির্বাচক আকিব জাভেদ। অধিনায়ক বাবর আজ়ম এবং টপ-অর্ডার ব্যাটার ফখর জ়মানের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, এই দুই তারকা ক্রিকেটার সম্ভবত চোট লুকিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন। এই বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
“বাবর-ফখর ফিট নন”: বিস্ফোরক আকিব জাভেদ
শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচক আকিব জাভেদ দলের ফিটনেস নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন। তাঁর নিশানায় ছিলেন বাবর আজ়ম, ফখর জ়মান এবং সলমন মির্জ়া। আকিবের সাফ কথা:
“বাবর আজ়ম ফিট নয়। ফখর জ়মান এবং সলমন মির্জ়াও আনফিট। পিসিবি-র কাছে অনুরোধ, ওদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করুক। বিশ্বকাপের পর ওদের চোটের কথা শুনছি আমরা। তাহলে কি টুর্নামেন্ট চলাকালীন কেউ ওদের ফিটনেস পরীক্ষা করেনি?”
নির্বাচকদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে দাবি করে তিনি আরও যোগ করেন যে, কোচ এবং ফিজিওর দায়িত্ব ছিল ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নির্বাচকদের স্পষ্ট জানানো।
চোট না কি টেকনিক? বাবরের সরে দাঁড়ানো নিয়ে ধন্দ
বিশ্বকাপের পর জাতীয় টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার কথা ছিল বাবর আজ়মের। সংবাদ সংস্থাগুলো আগে দাবি করেছিল, নিজের ব্যাটিং টেকনিকের উন্নতির জন্য তিনি এই প্রতিযোগিতা থেকে নাম তুলে নিয়েছেন। তবে আকিব জাভেদের মন্তব্যে উঠে এল ভিন্ন তথ্য। তাঁর মতে, বাবর আসলে চোটের কারণেই মাঠের বাইরে।
আকিব বলেন, “শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ফেরার পর চিকিৎসকেরা ওকে পরীক্ষা করেছেন। চোটের কারণেই ও বাংলাদেশ সিরিজ় এবং জাতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারছে না। ও খেলতে চাইলেও শরীর সায় দিচ্ছে না।”
কাঠগড়ায় কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ
নির্বাচকদের এই অভিযোগের ফলে সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দলের কোচ এবং মেডিকেল টিম। যদি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা চোট নিয়েই বিশ্বমঞ্চে নেমে থাকেন, তবে কেন তা গোপন রাখা হলো, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। নির্বাচকদের মতে, দলের ব্যর্থতার পেছনে এই ‘আনফিট’ ক্রিকেটারদের খেলানোর সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পিসিবি এই তদন্তের দাবিতে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্বকাপের ভরাডুবির পর দলের দুই প্রধান স্তম্ভের বিরুদ্ধে খোদ নির্বাচকের এই অনাস্থা পাকিস্তানের ক্রিকেট রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

