উত্তরবঙ্গ ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় সর্বোচ্চ ‘বিবেচনাধীন’ নাম

উত্তরবঙ্গ ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় সর্বোচ্চ ‘বিবেচনাধীন’ নাম

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনটি জেলা মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এবং রাজনৈতিকভাবে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পরিসংখ্যানটি নিম্নরূপ:

  • মুর্শিদাবাদ: ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫ জন
  • মালদহ: ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ১২৭ জন
  • উত্তর দিনাজপুর: ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৪১ জন

এই তিন জেলায় মোট ২৪ লক্ষ ৯ হাজার ৬১৩ জনের নাম বর্তমানে যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের দুই ২৪ পরগনাতেও বিপুল সংখ্যক নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫২ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৪২ জনের নাম এই তালিকায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও শাসকদলের উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, যে পাঁচটি জেলায় (মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দুই ২৪ পরগনা) সবথেকে বেশি নাম বিবেচনাধীন, সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক সবচেয়ে শক্তিশালী। এই পাঁচটি জেলার মোট বিবেচনাধীন নামের সংখ্যা সমগ্র রাজ্যের তালিকায় থাকা এই ধরণের নামের ৫০ শতাংশেরও বেশি।

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর ইতিমধ্যেই এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে দলের অন্দরে এই জেলাভিত্তিক প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এক নজরে ভোটার তালিকার পরিসংখ্যান

বিষয়পরিসংখ্যান
মোট বর্তমান ভোটার৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন
নতুন নাম সংযোজন (ফর্ম ৬)১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন
সংশোধন/সংযোজন (ফর্ম ৮)৬ হাজার ৬৭১ জন
মোট বাদ পড়া নাম (শনিবার পর্যন্ত)৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন
বিবেচনাধীন (Under Consideration)৬০ লক্ষের সামান্য বেশি

অন্যান্য জেলার পরিস্থিতি

তিনটি প্রধান জেলা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে নাম বিবেচনাধীন রয়েছে নিম্নলিখিত জেলাগুলিতে:

  • পূর্ব বর্ধমান: ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৩৯ জন
  • নদিয়া: ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৪০ জন
  • কোচবিহার: ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ১০৭ জন

এছাড়া জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমেও এই সংখ্যা ১ লক্ষের উপরে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ৬০ লক্ষ নামকে এখনই ‘বাতিল’ বলা ঠিক হবে না। পরবর্তী পর্যায়ের যাচাই শেষে এর মধ্যে অনেকের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ফিরতে পারে, আবার অনেকের নাম স্থায়ীভাবে মুছে যেতে পারে। তবে জেলাভিত্তিক এই ‘প্রবণতা’ আসন্ন নির্বাচনের নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.