রাতের শহরে ফের বেপরোয়া গতির তাণ্ডব। নিউটাউনের বিশ্ববাংলা গেট সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক বাইক আরোহী। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ২ জন। জি নিউজ (Zee News) সূত্রে খবর, ঘাতক মহিন্দ্রা থার গাড়িটির অনিয়ন্ত্রিত গতিই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ।
দুর্ঘটনার বিবরন: ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা গেটের দিকে ওয়েস্টিন হোটেলের কাছে সিগন্যাল তখন খোলা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইকো পার্কের দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আসছিল একটি সাদা রঙের থার গাড়ি। ঠিক সেই সময় একটি ওমনি গাড়ি ইউ-টার্ন (U-Turn) নিতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারায় থারটি।
সংঘর্ষের পর্যায়ক্রম: ১. দ্রুত গতির থার গাড়িটি প্রথমে সজোরে ধাক্কা মারে ওমনি গাড়িটিকে। ২. ধাক্কার অভিঘাতে থারটি ছিটকে গিয়ে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাইক এবং অপর একটি চারচাকা গাড়িকে পিষে দেয়। ৩. বাইক চালক সরাসরি থারের চাকার তলায় চলে যান এবং ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান।
উদ্ধারকার্য ও হতাহত
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় মানুষজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিউটাউন ট্রাফিক গার্ড এবং ইকো পার্ক থানার পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা বাইক আরোহীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি দুই জখম ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘাতক গাড়িটিকে আটক করেছে পুলিশ।
সল্টলেকের স্মৃতি উসকে দিল এই ঘটনা
নিউটাউনের এই দুর্ঘটনা শহরবাসীকে গত কয়েক দিন আগের সল্টলেকের ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সল্টলেকের এ-কে ব্লকের কাছে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা মারলে সেটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। সেই ঘটনার কবলে পড়ে এক ডেলিভারি বয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। ল্যাম্পপোস্ট ও গাড়ির মাঝে পিষে যাওয়ার পর তাঁর দেহে আগুন লেগে গিয়েছিল। পালানোর চেষ্টা করলেও রেলিংয়ে প্যান্ট আটকে যাওয়ায় তিনি আর বাঁচতে পারেননি।
বারবার সচেতনতা প্রচার এবং ট্রাফিক নজরদারি সত্ত্বেও কেন রাতের শহরে গতির বলি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

