ব্রিগেডে মোদী-সন্দর্শন: নিরাপত্তার কড়াকড়িতে মঞ্চ খুলে ফেলার নির্দেশ এসপিজি-র

ব্রিগেডে মোদী-সন্দর্শন: নিরাপত্তার কড়াকড়িতে মঞ্চ খুলে ফেলার নির্দেশ এসপিজি-র

জেলায় জেলায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সমাপ্তি লগ্নে এখন রাজ্য রাজনীতির নজর কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। আগামী শনিবার, ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা সমাবেশের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিরাপত্তার কারণে তাতে সাময়িক ছেদ পড়ল। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG) মঙ্গলবার বিকেলে ব্রিগেডের মূল সভামঞ্চটি খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।


কেন এই আকস্মিক নির্দেশ?

মঙ্গলবার বিকেলে এসপিজি কর্তারা ব্রিগেডের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসে জানান, যেখানে মূল মঞ্চটি বাঁধা হয়েছে, সেই স্থানের মাটির তলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। মাটির উপরে সাধারণ নজরদারির পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাটির গভীরে তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিত হতে চায় নিরাপত্তা বাহিনী। কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা নাশকতার সম্ভাবনা যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। এসপিজি-র পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মাটি পরীক্ষা করে তাঁরা সন্তুষ্ট হওয়ার পরেই পুনরায় মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু করা যাবে।


প্রস্তুতির বর্তমান চিত্র ও প্রশাসনিক জটিলতা

গত রবিবার থেকেই ব্রিগেডের মাঠ সাজানোর কাজ শুরু করেছিল বিজেপি। মূল সভামঞ্চের তদারকিতে রয়েছেন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, অনল বিশ্বাস এবং কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়রা।

  • মঞ্চের অবস্থা: হ্যাঙারের আচ্ছাদন এবং লোহার স্তম্ভের উপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে মঞ্চের মূল কাঠামোটি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
  • নির্দেশ: এসপিজি-র নির্দেশের পর সেই কাঠামোর একাংশ বা পুরোটাই খুলে ফেলতে হচ্ছে। তবে সূত্রের খবর, হ্যাঙারের আচ্ছাদনটি হয়তো খোলার প্রয়োজন পড়বে না।
  • দ্বৈত কর্মসূচি: উল্লেখ্য, আগামী শনিবারের এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক জনসভার পাশাপাশি একটি প্রশাসনিক সভাও থাকছে। মূল মঞ্চের ঠিক পিছনেই সরকারি প্রকল্পসমূহের শিলান্যাস ও উদ্বোধনের জন্য আলাদা প্রশাসনিক সভাস্থল তৈরির কাজ চলছে।

সময়ের চ্যালেঞ্জ: চিন্তায় গেরুয়া শিবির

শনিবারের সভার আগে হাতে সময় মাত্র তিন দিন। গত তিন দিনের পরিশ্রমের পর তৈরি করা মঞ্চ এখন খুলে ফেলে পুনরায় সময়ের মধ্যে তৈরি করা যাবে কি না, তা নিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মাঠ প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা নেতাদের একাংশের দাবি:

  1. মূল মঞ্চ নতুন করে বাঁধতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
  2. মাঠজুড়ে শালখুঁটি, বাঁশের ব্যারিকেড এবং ব্লক বিভাজনের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।
  3. মাইক ও সাউন্ডবক্স বসানোর কাজও নির্দিষ্ট গতিতে চলছে।

নেতৃত্বের আশা, এসপিজি-র সবুজ সংকেত পাওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মাঠকে সভার জন্য প্রস্তুত করে তোলা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.