ব্রিগেডের মঞ্চে মোদী-দিলীপ ‘মধুর’ সংলাপ: বিয়ের মিষ্টি নিয়ে অনুযোগ প্রধানমন্ত্রীর, কাটল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বরফ

ব্রিগেডের মঞ্চে মোদী-দিলীপ ‘মধুর’ সংলাপ: বিয়ের মিষ্টি নিয়ে অনুযোগ প্রধানমন্ত্রীর, কাটল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বরফ

শনিবারের ব্রিগেডে কেবল রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি বা জনসমুদ্রের গর্জনই নয়, নজর কাড়ল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষের এক সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ব্যক্তিগত মুহূর্ত। ভাষণের মাইক্রোফোন বন্ধ থাকলেও, মোদী ও দিলীপের এই একান্ত সংলাপ মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য নেতা ও কর্মীদের আপ্লুত করেছে। বিশেষ করে দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত জীবন ও বিবাহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর করা রসিকতা এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।


মিষ্টি নিয়ে অনুযোগ: ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মেজাজে প্রধানমন্ত্রী

ব্রিগেড সমাবেশের ভাষণ শেষ করে মঞ্চ থেকে নামার সময় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষের সামনে এসে তিনি কিছুটা থমকে দাঁড়ান এবং সহাস্যে তাঁর হাত ধরেন। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর বর্ণনায়, “অনেক দিন পর কোনও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে যেমনটা হয়, মোদীজি ঠিক সেই মেজাজেই দিলীপদার সঙ্গে কথা বলেছেন।”

দিলীপ ঘোষকে করজোড়ে সামনে পেয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুযোগের সুরে বলেন, “বিয়ে করলে লোকে অন্তত মিষ্টি খাওয়ায়। তুমি তো সেটুকুর জন্যও ডাকলে না বা মিষ্টি খাওয়ালে না!” প্রধানমন্ত্রীর এই রসিকতায় দিলীপ ঘোষ কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়লেও মঞ্চে হাসির রোল ওঠে। পরে দিলীপ ঘোষ নিজেই জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে নির্বাচন মিটে গেলে দিল্লি গিয়ে সস্ত্রীক মিষ্টি খাইয়ে আসবেন।


কেন এই কথোপকথন তাৎপর্যপূর্ণ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ অত্যন্ত ‘সচেতন’ এবং এর গভীর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে।

  • গ্লানি মোচন: দিলীপ ঘোষের বিবাহ এবং পরবর্তীতে দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল। গত প্রায় আট মাস দলের বড় কোনও কর্মসূচিতে দিলীপকে সেভাবে দেখা যায়নি।
  • বার্তা: ব্রিগেডের মঞ্চে শুধু ভাষণ দেওয়ার সুযোগই নয়, মোদী নিজে এগিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে বুঝিয়ে দিলেন যে দিলীপ এখনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মঞ্চে মোদীর ‘সচেতন’ সৌজন্য

তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় মোদী কার সঙ্গে কতক্ষণ কথা বলছেন, তা আগে থেকেই পরিকল্পিত থাকে। শনিবার ব্রিগেডে তেমন পাঁচটি বিশেষ মুহূর্ত দেখা গিয়েছে: ১. মিঠুন চক্রবর্তী: মঞ্চে আসীন মিঠুনকে পাশে ডেকে নিয়ে আলাদা করে কিছুক্ষণ কথা বলেন মোদী। ২. শুভেন্দু-সুকান্ত-শমীক: ভাষণ শেষে এই তিন শীর্ষ নেতার সঙ্গে মিনিটখানেক শলাপরামর্শ করেন তিনি। ৩. তথাগত রায়: প্রবীণতম নেতা তথাগত রায়ের সঙ্গেও ব্যক্তিগত আলোচনা করতে দেখা যায় তাঁকে। তথাগতর মতে, আলোচনাটি ছিল “ব্যক্তিগত অথচ রাজনৈতিক ছোঁয়াযুক্ত”। ৪. অশোক লাহিড়ি: প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ও বালুরঘাটের বিধায়কের সঙ্গে দুই দশকের পুরনো পরিচয়ের খাতিরে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে শনিবারের ব্রিগেড কেবল ভোটযুদ্ধের রণকৌশল স্থির করেনি, বরং রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণগুলোতেও নতুন করে প্রলেপ দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.