পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের খবর দিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
ষষ্ঠ তালিকার প্রকাশ ও তথ্য বিশ্লেষণ
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর এদিন এসআইআর সংক্রান্ত ষষ্ঠ তালিকা (পঞ্চম অতিরিক্ত তালিকা) প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় নতুন করে প্রায় ৩ লক্ষ নাম রয়েছে। কমিশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী:
- নতুন নিষ্পত্তি: প্রায় ২ লক্ষ ভোটারের নাম নতুন করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
- প্রযুক্তিগত সংশোধন: বাকি ১ লক্ষ ভোটার আগের তালিকায় ‘ই-সাইন’ (E-sign) জনিত যান্ত্রিক বিভ্রাটের শিকার ছিলেন, যা এই তালিকায় সংশোধন করা হয়েছে।
সময়সীমা ও লক্ষ্যমাত্রা
কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে আর প্রায় ১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল— অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের আগেই এই সমস্ত নাম নিষ্পত্তি করে ফেলা হবে। তবে এই ৪৪ লক্ষ নিষ্পত্তিকৃত নামের মধ্যে কতজনের নাম শেষ পর্যন্ত ‘বাদ’ পড়েছে, সেই নির্দিষ্ট তথ্য এখনও খোলসা করেনি কমিশন।
বিচারকদের তৎপরতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মোট ৭০৫ জন বিচারক এই বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ করছেন। গত ২৩ মার্চ রাত থেকে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারকদের দেওয়া তথ্য প্রসেস করতে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগছে এবং তা সম্পন্ন হওয়া মাত্রই অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের তালিকা নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তালিকা প্রকাশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় নিশানা করেছিলেন। বিশেষ করে মাঝরাতে কমিশনের ওয়েবসাইটে কারিগরি সমস্যার কারণে সমস্ত ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ দেখানোর ঘটনাটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের বর্তমান তৎপরতা দেখে মনে করা হচ্ছে, আইনি জটিলতা কাটিয়ে একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা উপহার দেওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

