প্রস্তুতির অভাব ও স্পনসরহীন জার্সি: সঙ্কটে স্কটিশ ক্রিকেট প্রশাসন

প্রস্তুতির অভাব ও স্পনসরহীন জার্সি: সঙ্কটে স্কটিশ ক্রিকেট প্রশাসন

আইসিসি-র চিফ এগজিকিউটিভ সঞ্জয় গুপ্তের বার্তার পর থেকেই ঘুম উড়েছে স্কটিশ কর্তাদের। এই নিয়ে সপ্তমবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও, এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের চিফ এগজিকিউটিভ ট্রুডি লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, হাতে সময় এতটাই কম যে দলের জন্য বিশ্বকাপের বিশেষ জার্সি বা স্পনসর— কোনোটিরই ব্যবস্থা করা এখনও সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো:

  • জার্সি সঙ্কট: নতুন নকশার জার্সি তৈরি না হলে পুরনো কিট পরেই মাঠে নামতে হতে পারে ক্রিকেটারদের।
  • স্পনসরশিপ: মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • ভিসা ও টিকিট: কোচ ও ক্রিকেটারদের ভিসা প্রক্রিয়া এবং বিমানের টিকিট নিশ্চিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।

বাংলাদেশের প্রতি সমবেদনা ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি

বাছাই পর্বের মাধ্যমে নয়, বরং বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে এই সুযোগ পাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লিন্ডব্লেড। তিনি বলেন, “আমরা কখনও এভাবে বিশ্বকাপে খেলতে চাইনি। বাছাই পর্বের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য আমাদের পূর্ণ সমবেদনা রয়েছে। এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি।”


জনবল সঙ্কট ও ত্রিবিধ চাপ

অ্যাসোসিয়েট দেশ হিসেবে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট পরিকাঠামো এখনও বেশ সীমিত। কোচ, উন্নয়ন কর্মী এবং সংস্থার কর্মী মিলিয়ে মোট সদস্য সংখ্যা ৩০-এর সামান্য বেশি। একই সময়ে তিনটি বড় ইভেন্ট সামলাতে হচ্ছে এই ক্ষুদ্র দলকে:

  1. অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: স্কটল্যান্ডের যুব দল বর্তমানে এই টুর্নামেন্টে ব্যস্ত।
  2. মহিলা দলের নেপাল সফর: মহিলা দল নেপালে রয়েছে এবং তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের লড়াইতে ব্যস্ত।
  3. পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: আকস্মিক সুযোগ আসায় এখন এই বড় ইভেন্টের প্রস্তুতিও সামলাতে হচ্ছে।

আত্মবিশ্বাসী স্কটল্যান্ড

প্রস্তুতির সময় না থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী লিন্ডব্লেড। আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ড নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া। লিন্ডব্লেডের মতে, স্কটিশ ক্রিকেটাররা সারাবছর খেলার মধ্যেই থাকেন, তাই কারিগরি প্রস্তুতির চেয়ে সাংগঠনিক গুছিয়ে নেওয়াটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বেরিংটনদের নেতৃত্বাধীন এই দল বাংলাদেশের অভাব পূরণ করে বিশ্বকাপে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.