২৬ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে ঈশানের, কত নম্বরে খেলবেন, জানিয়ে দিলেন সূর্যকুমার, চিন্তিত নন নিজের ফর্ম নিয়ে

শেষ বার ভারতের জার্সিতে খেলেছিলেন ২০২৩-এর নভেম্বরে। সেই ম্যাচের ২৬ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে ঈশান কিশনের। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে সূর্যকুমার যাদব জানালেন, বুধবার খেলবেন ঈশান। তাঁকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির সময় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, নিজের ফর্ম নিয়েও চিন্তিত নন ভারতের অধিনায়ক।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলায় জাতীয় দলে নেওয়া হয়েছে এক সময়ের ‘অবাধ্য’ ক্রিকেটার ঈশানকে। তিলক বর্মা চোট পাওয়ায় তিন নম্বরে খেলারও কেউ নেই। সেখানেই ঈশানকে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন সূর্যকুমার।

বুধবার তিনি বলেন, “ঈশান তিনে ব্যাট করবে। কারণ ও বিশ্বকাপ দলের সদস্য। ওকে সকলের আগে দলে নেওয়া হয়েছে। তাই সুযোগ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। গড় দেড় বছরে (আসলে দু’বছরেরও বেশি) ভারতের হয়ে ও খেলেনি। সেই সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাবে খেলেছে।”

সূর্যকুমার আরও বলেন, “যে হেতু ওকে বিশ্বকাপের জন্য নেওয়া হয়েছে, তাই শ্রেয়সের আগে ওর সুযোগ প্রাপ্য। যদি চার বা পাঁচে ব্যাটিংয়ের সম্ভাবনা দেখা দিত, তখন বিষয়টা আলাদা হত। দুর্ভাগ্যবশত আমরা তিলককে পাচ্ছি না। তাই ঈশানই আমাদের সেরা বাজি।”

অতীতে সূর্য তিনে ব্যাট করে সাফল্য পেয়েছেন। তা হলে এ বার তিনে ব্যাট করছেন না কেন? সূর্যের জবাব, “আমি ভারতের হয়ে দুটো জায়গাতেই ব্যাট করেছি। চারে ব্যাট করে পরিসংখ্যান একটু ভাল। তিনেও খারাপ নয়। তবে আমরা বিষয়টা নিয়ে নমনীয়। যদি পরিস্থিতি এমন থাকে যে, কোনও ডান হাতিকে পাঠাতে হবে (যদি ওপেনার সঞ্জু স্যামসন আউট হয়ে যান) তা হলে আমিও ক্রিজ়ে যেতে পারি। তিলক এমনিতে তিন নম্বরে ভালই ব্যাট করছিল।”

খোদ সূর্যকুমারেরই ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছর একটিও অর্ধশতরান করতে পারেননি। গড় ১৫-রও নীচে। তবে এখনও ব্যাটিংয়ে কোনও বদল আনতে রাজি নন ভারতের অধিনায়ক। বলেছেন, “আমি রানে নেই ঠিকই। কিন্তু নিজের পরিচয় বদলাতে পারব না। গত তিন-চার বছর ধরে যা করে আসছি সেটাই করব। ওটাতেই সাফল্য পেয়েছি। পারফরম্যান্স ভাল হলে খুশি হব। খারাপ হলে আমার নতুন করে ভাবব। যে ভাবে আগে ব্যাট, এখনও নেটে সে ভাবেই ব্যাট করি।”

সূর্যকুমারের ইঙ্গিত, ব্যক্তিগত কোনও খেলা খেললে নিজের ফর্ম নিয়ে চিন্তা করতেন। দলগত খেলা বলেই বেশি ভাবতে রাজি নন। তাঁর কথায়, “যদি টেবিল টেনিস বা টেনিসের মতো খেলা খেলতাম তা হলে নিজের ফর্ম নিয়ে চিন্তা হত। কিন্তু এটা দলগত খেলা। আমার প্রথম দায়িত্ব এটা দেখা যাতে দল ভাল খেলে। দল জিতলে আমি খুশি হই। দলের সাফল্যে অবদান রাখতে পারলে ভাল লাগে। না রাখলেও অসুবিধা নেই। এমনটা হতেই পারে। তবে বাকি ১৪ জন ক্রিকেটারের কথাও আমায় মাথায় রাখতে হয়। এখানে ব্যক্তিগত মাইলফলকের কোনও জায়গা নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.