ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। সেই হিংসাত্মক ঘটনার নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা দেশবিরোধী শক্তি কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এবার এনআইএ-কে তদন্তের দায়িত্ব দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
ঘটনার সূত্রপাত: এক শ্রমিকের মৃত্যু ও জনরোষ
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আলাই শেখ ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতে গিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তিনি ‘বাঙালি’ হওয়ার কারণেই সেখানে তাঁর ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়।
- অবরোধ: মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখা হয়।
- রেল পরিষেবা ব্যাহত: শুধু সড়কপথই নয়, শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অশান্তির অভিযোগ
যদিও এই বিক্ষোভ কেবল সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল নাকি এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল শুরু থেকেই। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন মহলের দাবি অনুযায়ী, বেলডাঙায় যেভাবে দু’দিন ধরে অশান্তি চালানো হয়েছে, তা কেবল একটি মৃত্যুর প্রতিবাদ হতে পারে না। এই ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ গোলমালের আসল উৎস খুঁজতেই এবার সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব।
- সুকান্ত মজুমদার: কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, “যেভাবে হিংসা ছড়িয়েছিল, তা থেকে স্পষ্ট এর পেছনে বড় কোনো চক্রান্ত ছিল। এনআইএ-র তদন্তে আসল সত্য প্রকাশ্যে আসবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”
- শুভেন্দু অধিকারী: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘দেশবিরোধী আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পিএফআই (PFI) বা সিমির (SIMI) মতো নিষিদ্ধ সংগঠনগুলি এই অশান্তির নেপথ্যে থাকতে পারে।
তদন্তের দায়িত্বভার হাতে পাওয়ার পর এনআইএ আধিকারিকরা খুব শীঘ্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন বলে জানা গেছে।

