গম্ভীরের ভবিষ্যৎ কি সঙ্কটে? বোর্ড সচিবের বক্তব্যে মিলল বড় ইঙ্গিত

গম্ভীরের ভবিষ্যৎ কি সঙ্কটে? বোর্ড সচিবের বক্তব্যে মিলল বড় ইঙ্গিত

গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে অবিচল থাকলেও লাল বলের ক্রিকেটে দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা বোর্ডকে ভাবিয়ে তুলেছে। গত দুই বছরে নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ‘চুনকাম’ হওয়ার পর থেকেই গম্ভীরের অপসারণ নিয়ে গুঞ্জন তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া স্পষ্ট করলেন যে, কোনো আবেগ বা বাইরের সমালোচনার ভিত্তিতে নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিদ্ধান্ত নেবে বিশেষজ্ঞ কমিটি

সংবাদসংস্থা ‘স্পোর্টস্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শইকীয়া জানান, কোচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য বোর্ডে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের একটি ক্রিকেট কমিটি রয়েছে যেখানে অভিজ্ঞ প্রাক্তন ক্রিকেটাররা রয়েছেন। দলের পারফরম্যান্স এবং কোচের ভূমিকা নিয়ে তাঁরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া দল নির্বাচনের জন্য পাঁচ সদস্যের নির্বাচক মণ্ডলীও রয়েছে। তাই এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার আমার নেই।”

পরিসংখ্যান বনাম জল্পনা

গম্ভীরের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে:

  • টেস্ট ক্রিকেট: ভারতের ৯৩ বছরের ইতিহাসে ঘরের মাঠে দু’বার সিরিজ চুনকাম হওয়ার নজির গম্ভীরের আমলেই ঘটেছে।
  • একদিনের সিরিজ: গত পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের কাছে তিনটিতেই পরাজিত হয়েছে গম্ভীরের ভারত।
  • সাফল্য: যদিও তাঁর কোচিংয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে এবং বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো ফর্মে রয়েছে।

জনমত ও সমালোচনা

ভারতের মতো ক্রিকেটপাগল দেশে হারের পর সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন বোর্ড সচিব। শইকীয়া বলেন, “১৪০ কোটি মানুষের দেশে প্রত্যেকেই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। গণতান্ত্রিক দেশে কারও মুখ বন্ধ করা সম্ভব নয়। সমাজমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে জল্পনা চলবেই, তবে বোর্ড তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।”

বিশ্বকাপের পর কী হতে পারে?

বোর্ড সূত্রের ইঙ্গিত, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ফলাফল গম্ভীরের কোচিং ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ভারত যদি শিরোপা জিততে সক্ষম হয়, তবে সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর সাফল্য টেস্টের ব্যর্থতাকে কিছুটা আড়াল করতে পারে। আপাতত বোর্ড ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতি গ্রহণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.