২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক মাস আগে বড়সড় ধাক্কা খেল আন্তর্জাতিক ফুটবল মহল। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর এটা কার্যত নিশ্চিত যে, আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে চলা আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরান। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিযোগিতায় একটি দেশের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা পূরণে এখন বিকল্প দলের সন্ধানে নেমেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা।
ইরানের জায়গায় কারা? আলোচনায় তিন দেশ
ইরান সরে দাঁড়ানোয় সেই শূন্যস্থান পূরণে মূলত তিনটি দেশের নাম নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে: ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইউরোপীয় জায়ান্ট ইটালি। সাধারণত যে মহাদেশের দল নাম প্রত্যাহার করে, সেই মহাদেশ থেকেই বিকল্প দল বেছে নেওয়ার রীতি থাকলেও, ফিফার সংবিধানে এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।
ফিফার সম্ভাব্য চার সমীকরণ
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ইরানের পরিবর্তে অন্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নিচের চারটি পথ খোলা রয়েছে:
১. র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে আমিরশাহি: নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মহাদেশ (এশিয়া) থেকে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দেশ সুযোগ পেতে পারে। সেক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেতে পারে।
২. ইরাককে সরাসরি সুযোগ: ইরাক বর্তমানে আন্তর্মহাদেশীয় যোগ্যতা অর্জন পর্বে বলিভিয়া বা সুরিনামের বিরুদ্ধে খেলার কথা। ফিফা চাইলে ইরাককে সরাসরি বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্লে-অফে খেলতে হবে আমিরশাহিকে।
৩. প্লে-অফ সমীকরণ: ইরাক যদি মাঠের লড়াইয়ে প্লে-অফ জিতে যোগ্যতা অর্জন করে নেয়, তবে ইরানের শূন্যস্থানে এশিয়ায় সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে নেওয়া হতে পারে। এর ফলে আমিরশাহিকে আর আলাদা করে প্লে-অফে লড়তে হবে না।
৪. ইটালির অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা: ফিফা যদি মহাদেশীয় সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বিশ্ব র্যাঙ্কিংকে প্রাধান্য দেয়, তবে কপাল খুলতে পারে ইটালির। সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দেশগুলোর মধ্যে ইটালির র্যাঙ্কিং সবার উপরে। তবে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ফিফা এই পথে হাঁটবে না।

