মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ভারতের জন্য বড়সড় কূটনৈতিক স্বস্তি। দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে ভারতগামী দুটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) অতিক্রম করার অনুমতি দিল ইরান। জি নিউজ (Zee News) সূত্রে খবর, এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের আসন্ন জ্বালানি সংকটের মেঘ অনেকটাই কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘বন্ধু’ ভারতের জন্য ইরানের ছাড়পত্র
ইরান ইজ়রায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ঘোষণা করেছিল যে, পশ্চিম এশিয়া থেকে এক লিটার তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। এত দিন পর্যন্ত এই প্রণালী ব্যবহারের অনুমতি ছিল কেবল চিন ও রাশিয়ার। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ভারতের নাম।
ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এই ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। তিনি বলেন:
“ইরান ও ভারত দীর্ঘদিনের বন্ধু। আমাদের স্বার্থ ও বিশ্বাস অভিন্ন। কঠিন সময়ে ভারত যেভাবে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা আমরা ভুলিনি। আপনারা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইতিবাচক ফল দেখতে পাবেন।”
নেপথ্যে এস জয়শঙ্করের ম্যারাথন কূটনীতি
এই ছাড়পত্র পাওয়ার নেপথ্যে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয় তেহরানকে। তার পরেই এই বরফ গলার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
‘ডার্ক মোডে’ দুঃসাহসিক যাত্রা: মুম্বই পৌঁছল তেলবাহী জাহাজ
হরমুজ় প্রণালীর এই অবরোধের মাঝেই গত বুধবার একটি রোমহর্ষক অভিযানের সাক্ষী থেকেছে মুম্বই বন্দর। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ১,৩৫,৩৩৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে মুম্বই এসে পৌঁছায় লিবেরিয়ার পতাকাবাহী অয়েল ট্যাঙ্কার ‘শেলং সুয়েজম্যাক্স’।
কীভাবে এল এই জাহাজ?
- ভারতীয় ক্যাপ্টেনের কৃতিত্ব: জাহাজটির চালক ছিলেন এক ভারতীয় ক্যাপ্টেন।
- ডার্ক মোড: ৯ মার্চ হরমুজ় প্রণালীতে ঢোকার সময় শনাক্তকরণ এড়াতে জাহাজের ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ বা AIS বন্ধ করে দেওয়া হয়। একেই নৌ-পরিভাষায় ‘ডার্ক মোড’ বলা হয়।
- সফল নোঙর: সিগন্যাল ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করে জাহাজটি বুধবার মুম্বই বন্দরে সফলভাবে নোঙর করে।

