‘এখানেই আছি, এসে ধরো’! হুঁশিয়ারি দেওয়া ‘কাপুরুষ’ ট্রাম্পকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেট্রো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ বার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো। ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের নিন্দা করে ট্রাম্পকে পেট্রোর চ্যালেঞ্জ, ‘‘আসুন, আমায় নিয়ে যান!’’ এখানেই থেমে থাকেননি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি এখানেই (কলম্বিয়া) আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।’’

কলম্বিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। মাদুরোকে গ্রেফতারের পরেই কলম্বিয়ার উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই বিষয় স্মরণ করে সোমবার পেট্রো বলেন, ‘‘ওরা (মার্কিন সেনা) যদি বোমা মারে তার জবাব দেবে গেরিলা বাহিনী। আর যদি তারা (কলম্বিয়ার) প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যেতে চায় তবে দেশবাসীর মধ্যে জানোয়ারকে জাগিয়ে তুলবে।’’ ট্রাম্পকে ‘কাপুরুষ’ বলেও কটাক্ষ করেন পেট্রো।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীতে ছিলেন পেট্রো। সে দেশের গেরিলা বাহিনীর অফিসার ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনকে তাঁর অতীত জীবনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে পেট্রো বলেন, ‘‘আমি জীবনে আর কোনও দিন অস্ত্র স্পর্শ না-করার শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু দেশের জন্য প্রয়োজনে আমি আবার অস্ত্র হাতে তুলে নেব।’’

শনিবার মধ্যরাতে (স্থানীয় সময়) ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সেফ হাউস থেকে মার্কিন বাহিনী তুলে নিয়ে যায় সস্ত্রীক মাদুরোকে। উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকায়। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন জেলে বন্দি মাদুরো। তাঁকে বন্দি করার পর ট্রাম্প মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বুঝিয়ে দেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না। তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, মাদকপাচার এবং অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে তাঁর দেশ কোনও আপসের পথে হাঁটবে না। সরাসরি পেট্রোর নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ওঁর কোকেন তৈরির কারখানা আছে। হ্যাঁ, আমি আগেও এ কথা বলেছিলাম। আবারও বলছি, পেট্রোর মাদক তৈরির একাধিক কারখানা রয়েছে।’’ তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দেন, ‘‘কলম্বিয়ায় মাদক তৈরি করে আমেরিকায় পাঠানো হচ্ছে। এ বার পেট্রোকেও শিক্ষা দিতে হবে।’’ সেই হুঁশিয়ারির দু’দিন পর পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পেট্রো এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প।

অনেকের মতে, পেট্রোর কণ্ঠে মাদুরোর সুর শোনা যাচ্ছে। মাদুরোকে গ্রেফতারের পর হোয়াইট হাউসের তরফে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়েছিল। ভিডিয়োটি ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টের পুরনো বক্তৃতার অংশ। সেই ভিডিয়োয় মাদুরোকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমায় ধরতে এসো। মিরাফ্লোরেসে (ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টের বাসভবন) অপেক্ষা করছি।’’ তাঁর গ্রেফতারির পর এই ভিডিয়ো নিয়ে রিপাবলিকানদের একাংশ দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে ভুলই করেছিলেন মাদুরো। তাঁর ফল ভুগতে হল তাঁকে! এ বার সেই রিপাবলিকানেরাই প্রশ্ন তুলছেন, মাদুরোর মতো অবস্থা হবে না তো পেট্রোর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.