শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা সমাবেশের আগে গিরিশ পার্ক এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দলের অভিযোগের অপেক্ষা না করে কলকাতা পুলিশ নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা (Suo Motu Case) রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, গ্রেফতারির প্রতিবাদে বরাহনগর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
শনিবার দুপুরে ব্রিগেডের সভা অভিমুখে যাওয়ার সময় গিরিশ পার্ক এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
- তৃণমূলের অভিযোগ: বিজেপি কর্মীরা বাসে করে যাওয়ার সময় রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে।
- বিজেপির পাল্টা দাবি: তৃণমূল কর্মীরাই প্রথম ব্রিগেডগামী বাসে ইটবৃষ্টি করে। এতে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হন এবং বাসের কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) নামানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ।
আক্রান্ত পুলিশ: রিপোর্টে কি রয়েছে?
এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে খোদ পুলিশ কর্মীরাই আক্রান্ত হন।
- আহত পুলিশকর্মী: বৌবাজার থানার ওসিসহ মোট আট জন পুলিশকর্মী এই ঘটনায় জখম হয়েছেন।
- আইনি পদক্ষেপ: ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে খুনের চেষ্টা, অবৈধ জমায়েত, সরকারি কর্মীকে বাধা, অস্ত্র নিয়ে আঘাত ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (WBMPO) আইনও প্রয়োগ করা হয়েছে।
গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা
বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া চার জনের মধ্যে তিন জন তাঁদের দলের কর্মী। ধৃতরা হলেন চরণজিৎ সিংহ, সানি দে এবং কৃষাণু বসু। তাঁদের বরাহনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সজল ঘোষের অভিযোগ, “ওরা সম্পূর্ণ নির্দোষ, পুলিশ অন্যায়ভাবে তাঁদের গ্রেফতার করেছে।” এই গ্রেফতারির প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা বরাহনগর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান।
নির্বাচন কমিশনের কড়া দাওয়াই
শহরের বুকে এই অশান্তির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
- রিপোর্ট তলব: কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের কাছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
- বাহিনীর ভূমিকা: স্পর্শকাতর এলাকায় গণ্ডগোলের সময় কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) উপস্থিত ছিল না, সেই বিষয়েও কমিশনের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

