সেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে! দিল্লি থেকে এ বার দুই জেলাশাসককে নির্দেশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় আবার তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট দুই জেলার জেলাশাসক তথা জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (ডিইও) এই নির্দেশ বলবৎ করতে বলেছে কমিশন। কমিশন আরও জানিয়েছে, এই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে হবে।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকার কাজ যাঁদের তত্ত্বাবধানে চলছিল, সেই দুই ইআরও (নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক) এবং দুই এইআরও-কে (সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক) সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করেছিল কমিশন। শুধু তা-ই নয়, সেই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে বলেছিল। এক বার নয়, এ নিয়ে দু’বার মনোজকে চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। পাশাপাশি, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথাও বলেছিল।

সেই নির্দেশকে নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয় রাজ্য সরকার এবং কমিশনের মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে দেবেন না তিনি। বলেন, ‘‘আমি কারও কোনও পানিশমেন্ট (শাস্তি) হতে দেব না।’’ তার পরে আর কমিশনের নির্দেশ কার্যকর হয়নি। তাই এ বার সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা ডিইও-দের এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হল দিল্লি থেকে। দুই ইআরও এবং দুই এইআরও ছাড়াও আরও কর্মীর বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ওই কর্মী ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত ছিলেন।

বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও হিসেবে কাজ করছিলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং তথাগত মণ্ডল। ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ওই দুই দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। তাঁদের পাশাপাশি সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের নামেও এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখিত চার আধিকারিকই ডব্লিউবিসিএস অফিসার। দেবোত্তম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেন। তথাগত জয়নগর-১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়কের জেলা অফিসার, সুদীপ্ত তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট এবং অডিট অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

ময়না এবং বারুইপুর পূর্বের ওই চার আধিকারিককে বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, ভোটার তালিকায় ‘বেঠিক অন্তর্ভুক্তি’র। তার পাশাপাশি নির্বাচন নিবন্ধন সংক্রান্ত যে তথ্যসম্ভার (ইআরও নেট) কমিশনের রয়েছে, তার গোপনীয়তা বজায় রাখতেও এই আধিকারিকেরা ব্যর্থ হয়েছেন বলে কমিশন জানিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.