প্রকাশিত হল একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা। বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪৫ নাগাদ স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-র তরফে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত ইন্টারভিউয়ে কারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাঁদের নাম যেমন রয়েছে। তেমনই রয়েছে অপেক্ষার তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নাম। রয়েছে অনুত্তীর্ণদের তালিকাও।
১২,৪৪৫ শূন্যপদের জন্য এই প্যানেল প্রকাশ করা হয়েছে। প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্ট মিলিয়ে মোট ১৮,২২৭ প্রার্থীর নাম প্রকাশ হয়েছে তালিকায়। জানা গিয়েছে, এ মাসের শেষ থেকেই প্রার্থীদের হাতে সুপারিশপত্র তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে এসএসসি। মনে করা হচ্ছে, আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকেই যাতে সুপারিশ পত্র বিতরণের কাজ শুরু করা হবে।
এর আগেই এসএসসি-র তরফে জানানো হয়েছিল সরস্বতী পুজোর আগেই প্যানেল প্রকাশ করা হবে। সুপ্রিম কোর্ট অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করলেও বিধানসভা ভোটের আগেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ফেলতে চাইছিল সরকার। কমিশন সূত্রের জানা গিয়েছিল, ২২জানুয়ারি থেকে সরস্বতী পুজোর পর একটানা সরকারি ছুটি রয়েছে। তাই তার আগেই তালিকা প্রকাশ করতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। ২৭ জানুয়ারি থেকে যাতে কাউন্সেলিং শুরু করা যায়, সেই চেষ্টাই চলছে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫। সে সময়ই ৩৫টি বিষয় নথি যাচাই প্রার্থীদের। সেখানে প্রায় ২০ হাজারের বেশি প্রার্থীরা ডাক পেয়েছিলেন।
এসএসসি স্বীকার করেছে তথ্যগত ভুল থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়েছিল। এমনকি অযোগ্য দাগী কয়েকজন প্রার্থীও ইন্টারভিউ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এসএসসি। তাদের নাম বাদ গিয়েছে। সেই তালিকা ও প্রকাশ করা হয়েছে। চাকরির সুপারিশ পত্র পাবেন এবং আপাতত অপেক্ষায় আছেন, এমন প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮০০০।
স্কুল সার্ভিস কমিশন প্রাথমিক ভাবে ১৮,৯০০ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা জানালেও একাদশ-দ্বাদশর নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯,৯২১ জনকে প্রথমে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। তারপর আদালতের নির্দেশে আরও ১৫৬ প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। অর্থাৎ মোট ২০,০৭৭ প্রার্থী ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পান। কিন্তু ১,৩২৭ জন প্রার্থীর জাতিগত শংসাপত্রে ভুল থাকায় বা অভিজ্ঞতার ভুয়ো তথ্য দেওয়ায় নাম বাদ পড়ে।
এ ছাড়া, ২৬৯ জন ‘অযোগ্য’ প্রার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন। তাঁদের নামও বাদ দিয়েছে কমিশন। বুধবার মোট ৩০৩ জনের তালিকা প্রকাশ করে কমিশন জানিয়েছে ইন্টারভিউ দেওয়ার পর এঁরা বাদ পড়েছন। অর্থাৎ, মোট ১৮৫০ প্রার্থীর নাম বাদ দিয়েছে কমিশন।

