আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ইরান ও আয়োজক দেশ আমেরিকার মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আমেরিকার মাটি থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার যে আবেদন ইরান করেছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফলে শত্রু দেশ হিসেবে পরিচিত আমেরিকার মাটিতেই এখন ডেরেকুশদের (ইরান জাতীয় দল) ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
ফিফার অনড় অবস্থান
ইরানের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের জাতীয় দলের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ম্যাচগুলি প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো বা কানাডায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সাফ জানিয়েছেন, “বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানেই হবে। এই মুহূর্তে সূচি পরিবর্তন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের পাল্টা জবাব
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, “বিশ্বকাপে ইরান দলকে স্বাগত, তবে এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত বলে আমি মনে করি না।”
এই প্রচ্ছন্ন হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান ফুটবল দলও। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: বিশ্বকাপ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, যার নিয়ন্ত্রক ফিফা— কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দেশ নয়।
- যোগ্যতা: ইরান নিজেদের শক্তির জোরে প্রথম সারির দল হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। কোনো দেশ চাইলেই ইরানকে বাদ দিতে পারে না।
- নিরাপত্তা নিয়ে কটাক্ষ: ইরানের মতে, যদি কোনো দেশ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে আয়োজক হিসেবে তাদেরই যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।
অনিশ্চয়তায় ইরানের অংশগ্রহণ
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগের। এর আগে ইরান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, কোনো ‘শত্রু দেশে’ তাদের কোনো অ্যাথলিটকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পাঠানো হবে না।
বর্তমানে ফিফা সূচি পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় এবং আমেরিকার মাটিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থাকায়, আগামী বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার এই অনড় অবস্থান ইরানকে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

