জাতীয় রাজধানীতে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার শিকার হলেন কমল ধ্যানি নামে এক যুবক। পাইপলাইনের কাজের জন্য খুঁড়ে রাখা ২০ ফুট গভীর গর্তে বাইক নিয়ে পড়ে গিয়ে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা যন্ত্রণায় ছটফট করলেও কেউ তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। শনিবার সকালে গর্ত থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দিল্লি জল বোর্ডের গাফিলতি এবং জনমানসের চরম উদাসীনতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক স্তম্ভিত করা চিত্র। শুক্রবার রাত ১২টা নাগাদ বাড়ি ফেরার পথে ওই গভীর গর্তে পড়ে যান কমল। দুর্ঘটনার পর বাইকের হেডলাইট তখনও জ্বলছিল। তদন্তকারী আধিকারিক দারাদে শরদ ভাস্কর জানান, আলোকরেখা দেখে অনেক পথচারী কৌতূহলবশত গর্তে উঁকি দিয়েছিলেন। এমনকি এক বিয়েবাড়ি ফেরত ব্যক্তি এক নিরাপত্তারক্ষীকে বিষয়টি জানান। ওই রক্ষী একজন শ্রমিককে পাঠালে তিনি গর্তে উঁকি দিয়ে ঠিকাদার রাজেশ প্রজাপতিকে খবর দেন। ২০ মিনিট পর ঠিকাদার ঘটনাস্থলে এলেও কোনো উদ্ধারকাজে উদ্যোগী না হয়েই স্থান ত্যাগ করেন।
পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা
মৃত কমলের যমজ ভাই করণের দাবি, ওই রাতে কমল ১০ মিনিটের মধ্যে বাড়ি ফেরার কথা ফোনে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকায় তাঁরা চারটি থানায় সাহায্যের জন্য ঘুরলেও পুলিশ শুধু ‘লাস্ট লোকেশন’ জানিয়েই দায় সারে। পুলিশের অসহযোগিতার কারণেই উদ্ধারকাজে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
দিল্লি জল বোর্ডের গাফিলতি
রাস্তার মাঝখানে এত বড় খোঁড়াখুঁড়ি চললেও সেখানে কোনো সুরক্ষাবিধি মানা হয়নি বলে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
- ব্যারিকেডহীন গর্ত: গর্তের চারপাশে কোনো গার্ডরেল বা ব্যারিকেড ছিল না।
- রিফ্লেক্টরের অভাব: রাতের অন্ধকারে চালকদের সতর্ক করার জন্য কোনো লাল আলো বা রিফ্লেক্টর লাগানো হয়নি।
প্রশাসনের নড়েচড়ে বসা
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে: ১. যেখানে কাজ চলছে, সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে শক্তপোক্ত ব্যারিকেড দিতে হবে। ২. রাতে পথচারীদের সতর্ক করতে রিফ্লেক্টর ও আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. কোনো গর্ত খোলা রাখা যাবে না এবং প্রয়োজনে রাস্তার অভিমুখ সাময়িকভাবে পরিবর্তন করতে হবে।

