আইএসএল জিতলেও এ বার সরাসরি খেলা যাবে না চ্যাম্পিয়ন্স লিগে! ফেডারেশনকে ‘বিশেষ’ ছাড় দিয়ে জানাল এএফসি

জোড়াতালি দিয়ে আইএসএল আয়োজনের পথে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। গত বারের তুলনায় এ বার আইএসএল ৭২টি ম্যাচ কম হবে। তার পরেও এই লিগকে মান্যতা দিচ্ছে এশীয় ফুটবল সংস্থা (এএফসি)। তবে এ বার পুরো প্রতিযোগিতা না হওয়ায় আইএসএল জিতলেও সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে পারবে না কোনও দল। যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে হবে তাকে।

গত বার প্রতিটি দল গ্রুপে ২৪টি করে ম্যাচ খেলেছিল। কিন্তু এ বার তা কম হবে। খুব বেশি হলে ১৬টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে তারা। তার মধ্যে ১৩টি আইএসএলে। বাকি তিনটি ম্যাচে সুপার কাপে। এএফসির নিয়ম অনুযায়ী, পুরো লিগ না হলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ খেলার ছাড়পত্র পাওয়া যায় না। কিন্তু সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা আবেদন করে, এ বারের মতো আইএসএল লিগ শিল্ড জয়ী দলকে এএফসিতে সরাসরি খেলতে দেওয়া হোক। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে তাদের বিশেষ ছাড় দিয়েছে এএফসি। কিন্তু সরাসরি খেলার সুযোগ দেবে না তারা।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় ফুটবল সংস্থাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এএফসি। সেখানে তারা বলেছে, “এএফসির ধারা মেনে ভারতীয় ফুটবল সংস্থাকে সরাসরি খেলার ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। ফলে আইএসএল বা সুপার কাপ যে দল জিতবে তারা জায়গা করে নেবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর যোগ্যতা অর্জন পর্বে। সেখান থেকে মূল পর্বে তাদের জায়গা করে নিতে হবে।” আগে আইএসএল লিগ শিল্ড জয়ী দল সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ খেলার যোগ্যতা পেত। সুপার কাপ জয়ী দলকে খেলতে হত যোগ্যতা অর্জন পর্ব। এ বার দুই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দলকেই যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলতে হবে।

১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এ বারের আইএসএল শুরু হওয়ার কথা। মোট ৯১টি ম্যাচ হবে। প্রতিটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে এক বার করে খেলবে। অর্থাৎ, হোম-অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে এ বারের আইএসএল হচ্ছে না।

ফেডারেশন জানিয়েছে, আগামী আইএসএল আয়োজনের জন্য তারা সরাসরি ১০ শতাংশ টাকা দেবে। বাকি ৩০ শতাংশ আসবে বাণিজ্যিক সহযোগীর থেকে পাওয়া অর্থ থেকে। ফলে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা বাজেটের ৪০ শতাংশ দেবে ফেডারেশন। বাকি খরচ ক্লাবেদের।

ফেডারেশনের আশা, ঘরের মাঠে ক্লাবগুলি বেশির ভাগ খেলার ফলে টিকিট বিক্রি থেকে ক্লাবগুলির ঘরে অর্থ আসবে। ক্লাবের বাণিজ্যিক উন্নতিও হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা। যদিও কলকাতা, কেরল, বেঙ্গালুরু, গোয়া বাদে বাকি শহরে মাঠভর্তি লোক খেলা দেখতে আসেন না। সেই শহরের ক্লাবগুলির অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে ধোঁয়াশাই রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ফেডারেশন জানিয়েছে, প্রশাসনিক কাজের জন্য দু’কোটি ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। পুরস্কারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। সম্প্রচার বাবদ ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। ম্যাচ আধিকারিকদের বেতন বাবদ ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকা, ডোপিং বিরোধী কার্যকলাপ এবং আইনি সহায়তা বাবদ ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা, ডিজিটাল এবং মার্কেটিং বাবদ ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে।

ফেডারেশনের প্রস্তাবে অবনমন হওয়া ক্লাবগুলিকে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে প্যারাশুট পেমেন্টের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। সেই খাতে কোনও বরাদ্দ হয়নি। ফলে আগামী মরসুমে অবনমন হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। একই ভাবে, যুব লিগের জন্য কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.