অ্যাশেজ়ে মদ্যপান-বিতর্কে ক্ষমা চাইলেন ইংল্যান্ডের ব্রুক, কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রকাশ্যে আর এক পানশালার কীর্তি

মদ্যপান-বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ইংল্যান্ডের। বৃহস্পতিবার অ্যাশেজ়ের পঞ্চম টেস্টে হেরেছে তারা। আর সে দিনই ইংল্যান্ডের সংবাদপত্রে ফাঁস হল হ্যারি ব্রুকের কুকীর্তি। গত বছর নিউ জ়িল্যান্ডে গিয়ে একটি নৈশক্লাবে হাতাহাতি করেছিলেন ব্রুক। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এ দিন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ব্রুক। এ দিকে, অ্যাশেজ়ে ১-৪ হারের পর ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালামের চাকরি থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কী নিয়ে বিতর্ক?

ইংরেজ সংবাদপত্র ‘দ্য ডেলি টেলিগ্রাফ’ বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩১ অক্টোবর নিউ জ়িল্যান্ড সফরে থাকার সময় তৃতীয় এক দিনের ম্যাচের আগের দিন রাতে একটি নাইটক্লাবে গিয়েছিলেন ব্রুক। সঙ্গে ছিলেন জেকব বেথেল এবং গাস অ্যাটকিনসন।

সেই রাতে তাঁকে ওই নাইটক্লাবে ঢুকতে দেননি নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁরা সন্দেহ করেছিলেন, ব্রুক মত্ত অবস্থায় রয়েছেন। ব্রুক মানতে চাননি। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। তাঁদের মারতে উদ্যত হন। সে সময় এক নিরাপত্তারক্ষী ব্রুককে ঘুসি মারেন। ইংরেজ ব্যাটার চোট পাননি। তবে ঝামেলা না বাড়িয়ে ফিরে আসেন।

এর পরে ব্রুক নিজেই ঘটনাটি জানান দল পরিচালন সমিতিকে। নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তাঁকে এক দিনের দলের অধিনায়ক হিসাবে ছাঁটাই করা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। তবে ব্রুককে শেষ বারের মতো সতর্ক করে দেয় বোর্ড। সঙ্গে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানাও করা হয়। পরের দিনের ম্যাচে ১১ বলে মাত্র ৬ রান করেন ব্রুক। ইংল্যান্ড ম্যাচটি হারে এবং সিরিজ়ে চুনকাম হয়।

ব্রুক এক বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। বলেছেন, “নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চাইছি। স্বীকার করছি আমার আচরণ ভুল ছিল এবং আমার ও বোর্ডের দুর্নাম হয়েছে। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান। সতীর্থ, কোচ, সমর্থকদের আঘাত দেওয়ার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। তবে এই ঘটনা থেকে দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব শিখতে পেরেছি। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মাঠ এবং মাঠের বাইরে ভবিষ্যতের জন্য আবার সকলের বিশ্বাস অর্জন করতে চাই। ভবিষ্যতে যাতে কখনও এমন না হয় তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করব।”

কিছু দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার নুসায় ছুটি কাটাতে গিয়ে মত্ত বেন ডাকেটের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। ডাকেট এতটাই মদ্যপান করেছিলেন যে হোটেলে ফেরার রাস্তাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই প্রবল সমালোচিত হয় ইংল্যান্ড। দলের উপর কোচ এবং অধিনায়কের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্টে হেরে গিয়ে অ্যাশেজ়ও খোয়ায় ইংল্যান্ড।

অতীতে বেন স্টোকস নৈশক্লাবে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ২০১৭-য় ব্রিস্টলের সেই নৈশক্লাবের ঘটনার জেরে তাঁকে নির্বাসিত করে ইংল্যান্ড। অ্যাশেজ় সফরের দলে জায়গা পাননি তিনি। সেই ঘটনা থেকেও যে বাকি ক্রিকেটারেরা শিক্ষা নেননি, তা ব্রুকের আচরণে আরও এক বার প্রমাণিত।

খেলার মাঠেও ইংল্যান্ডের অবস্থা ভাল নয়। পঞ্চম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে বাগে পেয়েও তারা জিততে পারেনি।

পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের

অ্যাশেজ়ে ১-৪ হারের পর ইংল্যান্ড বোর্ডের মুখ্যকর্তা রিচার্ড গুল্ড জানিয়েছেন, দলের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে। দ্রুত উন্নতির জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেটাই নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, “এই সফর থেকে অনেক শিক্ষা নিয়ে ফিরছি। দ্রুত উন্নতির ব্যাপারে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ২০২৭-এ অ্যাশেজ় ফেরানোই আমাদের লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই এই সফরের পর্যালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সফরের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং আচরণ, সবই খতিয়ে দেখা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কী ভাবে আমরা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারি, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।”

আমাদের ইংল্যান্ডের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভাল খেলা। গুল্ড বলেছেন, “ওই সিরিজ়ে কিছু ভাল পারফরম্যান্স অবশ্যই ছিল। তার মধ্যে মেলবোর্নের জয়ও রয়েছে। তবে ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলতে পারিনি। আপাতত বিশ্বকাপ খেলতে দল যাবে শ্রীলঙ্কায়। আগামী মাসগুলোতে দলের প্রয়োজনীয় বদল করব আমরা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.