Doomsday Plane: পরমাণু যুদ্ধের সময়েই ব্যবহার হয়, আমেরিকার আকাশে ডুমস ডে প্লেন, জানুন ভয়ংকর এই বিমান সম্পর্কে

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন গ্রিনল্যান্ড তাঁর চাই, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে আনার পর লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলিও শঙ্কিত। পাশাপাশি ইরানকেও ঠারেঠোরে হুমকি দিচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকার আকাশে দেখা মিলল ডুমস ডে প্লেনের। আমেরিকার হাতে রয়েছে এরকম মাত্র ৪টি বিমান। লসঅ্যাঞ্জলেসে দেখা মেলা এরকম একটি বিমানের দেখা মেলায় আমেরিকায় হইচই পড়ে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে সেটি ওয়াশিংটনের কাছেকাছি মেরিল্যান্ড পর্যন্ত উড়ে এসেছে। 

কেন এই ধরনের বিমান রেখেছে আমেরিকা

দেশের জুরুরি অবস্থায় সময়েই একমাত্র এই ডুমস ডে প্লেনের ব্যবহার করা হয়। পরমাণু যুদ্ধের সময় এই বিমান থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরমাণু যুদ্ধা মানেই পৃথিবী ধ্বংসের সম্ভাবনা। তাই এই বিমানেপ নাম রাখা হয়েছে ডুমস ডে প্লেন। সাধারণভাবে এই ধরনের বিমানকে মানুষের চোখের আড়ালেই রাখা হয়। এই বিমানটি হল বেয়িংয়ের ই-৪ অ্য়াডভান্স এয়ারবোর্ন কমান্ড পোস্ট। 

বিমানে কে ছিলেন

এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে যে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ওই বিশেষ বিমানেই ছিলেন। সাধারণত সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যেসব সাধারণ সরকারি বিমান ব্যবহার করেন, তা বাদ দিয়ে কেন এই বিশেষ যুদ্ধকালীন বিমানটি ব্যবহার করা হলো, সে বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।

ডুমস ডে প্লেনের বিশেষত্ব

ডুমস ডে প্লেন এর অফিশিয়াল নাম E-4B Nightwatch। এটি মূলত একটি উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ হিসেবে কাজ করে। জরুরি অবস্থায় এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আকাশ থেকেই দেশ পরিচালনার কাজ করতে পারে। যদি কখনও পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয় বা বড় কোনো জাতীয় বিপর্যয় ঘটে, তখন এই বিমানটি ব্যবহার করা হয় যাতে নিরাপদ থেকে সব সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। মাটির সব যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলেও এই বিমানটি আকাশ থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে সক্ষম।

পারমাণবিক যুদ্ধের সময় তেজস্ক্রিয়তা এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস থেকে রক্ষা পেতে এটি বিশেষভাবে তৈরি। চার ইঞ্জিনের এই বিমানটি জ্বালানি ছাড়া টানা ১২ ঘণ্টা উড়তে পারে। এমনকি আকাশে উড়ন্ত অবস্থাতেও এতে জ্বালানি ভরা সম্ভব। মাটির সব টাওয়ার বা সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেলেও এটি আকাশ থেকে সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে। বিমানটিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ছিলেন। সাধারণত অতি জরুরি অবস্থা ছাড়া এই বিমান ব্যবহার করা হয় না। তাই সাধারণ সরকারি বিমানের বদলে কেন এই বিশেষ সামরিক বিমান ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে পেন্টাগন স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

ডুমস ডে প্লেন-এর ভেতরে কী কী সুবিধা আছে

বিমানটি ভেতরে মোট ৬টি প্রধান ভাগে বিভক্ত।

কমান্ড ওয়ার্ক এরিয়া: যেখান থেকে প্রধান কর্মকর্তারা আদেশ বা নির্দেশ দেন।

কনফারেন্স রুম: গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য বিশেষ কক্ষ।

ব্রিফিং রুম: সামরিক বা কৌশলগত আলোচনার জায়গা।

অপারেশন টিম ওয়ার্ক এরিয়া

যেখানে কর্মীরা সরাসরি যুদ্ধ বা অভিযান পরিচালনা করেন।

কমিউনিকেশন এরিয়া

যেখান থেকে সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রাখা হয়।

রেস্ট এরিয়া

কর্মকর্তাদের বিশ্রামের জায়গা।

এই  বিমানে একসঙ্গে ১১১ জন মানুষ থাকতে পারেন। আমেরিকায়  এই ধরণের বিমান আছে মাত্র ৪টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.