ট্রাম্পের জারিজুরি শেষ? ভেনেজুয়েলার উপর আর আক্রমণ শানাতে পারবেন না ট্রাম্প? সারা বিশ্বের সমালোচনার পর অবশেষে ট্রাম্র নিজের দলের লোকের কাছেই হেরেছেন।ভেনেজুয়েলা সংকটে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা খর্ব করতে মার্কিন সেনেটে প্রস্তাব পাস। এরপর ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না ট্রাম্প।
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের নতুন সামরিক পদক্ষেপের লাগাম টানতে যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন সিনেটে হওয়া ভোটে হেরেছেন রিপাবলিকানরা। ভেনেজুয়েলায় পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে বৃহস্পতিবার মার্কিন সেনেট একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তাকে ব্যহত করবে-এই কথা উল্লেখ করে এটিকে ভুল কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সিনেটের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা। মুক্তি দেওয়া হচ্ছে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বন্দীদের। আর মাদুরোকে আমেরিকা ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সমর্থকদের।
ওয়াশিংটন যখন ভেনেজুয়েলা সংকটে তার শাসন ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে, তখন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব দলের (রিপাবলিকান) সদস্যদের এই বিরল কাজ এক বড় রাজনৈতিক মোড় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কংগ্রেসের কর্তৃত্ব পুনর্প্রতিষ্ঠা আইনপ্রণেতারা ৫২-৪৭ ভোটে এই যুদ্ধকালীন ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি (War Powers Resolution) এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে সায় দেন। বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সাথে একাত্ম হয়ে এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। যদিও এটি বর্তমান কার্যক্রমগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করবে না, তবে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে বাধ্য করবে।
ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া নিজের দলের সেনেটরদের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প তাঁদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “যেসব রিপাবলিকান সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সাথে ভোট দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার এবং লড়াই করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের লজ্জিত হওয়া উচিত।” সেনেটরদের এই ভোট মূলত বিদেশি সংঘাতের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের প্রতি রিপাবলিকানদের একাংশের উদ্বেগের প্রতিফলন।
তবে প্রস্তাবটি সেনেটে পাস হলেও এটিকে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এ অনুমোদিত হতে হবে। এছাড়া ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটো (বাতিল করার ক্ষমতা) এড়াতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে ভেনেজুয়েলার তদারকি করতে পারে এবং সেদেশের তেল রাজস্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে। এই তদারকি কতদিন চলতে পারে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করে বলেন, “সময়ই বলে দেবে।” তবে তিনি যোগ করেন যে, এই ব্যবস্থা কয়েক মাস বা এক বছরের চেয়েও “অনেক বেশি সময়” স্থায়ী হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত লাভজনক উপায়ে বেরিয়ে আসবে।” উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের শেষে এক বিশেষ অভিযানে মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কারাকাসের অভিযোগ: “জ্বালানি লোভ” এদিকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে “জ্বালানি লোভ” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মাদুরোর শাসনামলে মাদক পাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুলেছে, তাকে “মিথ্যা” বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা সত্যিই একটি জ্বালানি শক্তিসম্পন্ন দেশ। আর এটাই আমাদের জন্য চরম বিপদ ডেকে এনেছে, কারণ আপনারা সবাই জানেন যে উত্তরের (যুক্তরাষ্ট্র) জ্বালানি লোভ আমাদের দেশের সম্পদ কুক্ষিগত করতে চায়।”
আমেরিকা যেকোনও একতরফা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা এমন জ্বালানি সম্পর্কের জন্য উন্মুক্ত যেখানে সব পক্ষই উপকৃত হবে এবং বাণিজ্যিক চুক্তিতে সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত থাকবে।’

