জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর ঢাকা: ভারতকে বাড়তি তেল সরবরাহের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর ঢাকা: ভারতকে বাড়তি তেল সরবরাহের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে নিজেদের জ্বালানি ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে ভারতের শরণাপন্ন হলো বাংলাদেশ। বুধবার ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল আমদানির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই অনুরোধের বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


চুক্তির বাইরেও বাড়তি তেলের আর্জি

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানোর কথা। বর্তমান অস্থিরতার মাঝেও চুক্তি মেনে মঙ্গলবার ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার এখন চুক্তির নির্ধারিত পরিমাণের বাইরেও অতিরিক্ত তেল চাইছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন:

“আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছি। ভারত ঠিক কতটা বাড়তি জোগান দিতে পারবে, তা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”


পশ্চিম এশিয়া সংকট ও ভারতের অবস্থান

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এলপিজি ও খনিজ তেলের জোগান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। তবে বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বস্ত করেছে যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে কেন্দ্র দেশবাসীকে যতটা সম্ভব জ্বালানি অপচয় বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে।


কূটনৈতিক তৎপরতা: ভারত বনাম পাকিস্তান ফ্যাক্টর

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে ফোনে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য বাড়ালেও, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে সচেষ্ট তারেক রহমানের সরকার। এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয়কুমার বর্মার সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নেপাল থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যে শৈত্য তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে চাইছে নতুন সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.