আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল নির্ধারণে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম রাজ্য সফরেই পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুরে রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির সঙ্গে এক ম্যারাথন বৈঠকে বসেন তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠকের মূল নির্যাস ছিল— সংগঠনের নীচের তলায় অর্থাৎ বুথ স্তরে নিবিড় সমন্বয় এবং প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার কঠোর পুনর্মূল্যায়ন।
প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন সমীকরণ?
বিজেপি সূত্রের দাবি, ২৯৪টি আসনেই যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পেতে ইতিমধ্যে তিনটি পর্যায়ের সমীক্ষা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে সেই সমীক্ষার মাপকাঠি ও ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন নিতিন নবীন। বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে বর্তমান বিধায়কদের ভাগ্য। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বিজেপির দখলে থাকা ৬৫টি আসনের সব বিধায়ক যে পুনরায় টিকিট পাবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। পারফরম্যান্স এবং জনমতের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকায় বড়সড় রদবদল হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
বুথ সশক্তিকরণ ও ‘সমন্বয়’ বার্তা
ভোটের লড়াইয়ে বুথ স্তরের শক্তিই যে শেষ কথা, তা রাজ্য নেতৃত্বকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন সর্বভারতীয় সভাপতি। যদিও রাজ্য বিজেপি দাবি করেছে যে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার বুথে তাদের কমিটি তৈরি, তবুও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখছেন।
- সমন্বয় বৃদ্ধি: বুথ স্তরের কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়বদ্ধতা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- সময়সীমা: মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রচারের বিধিনিষেধ থাকবে। তাই মার্চ থেকে শুরু হতে চলা ‘বৃহত্তর নির্বাচনী প্রচারাভিযান’-এর আগেই বুথ পর্যায়ের সব ফাঁকফোকর ভরাট করার নির্দেশ দিয়েছেন নবীন।
উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব
দুর্গাপুরের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির সব নেতা। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং রাহুল সিনহার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে ও অমিত মালব্যও আলোচনায় অংশ নেন। জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামোয় কোনো খামতি থাকলে তা অবিলম্বে নিরসনের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন নবীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর নিতিন নবীনের এই সফর প্রমাণ করে যে আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কোনোভাবেই হালকা ভাবে নিচ্ছে না দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

