পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মাঝে দেশবাসীকে ফের আশ্বস্ত করল কেন্দ্র। শনিবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকসহ পাঁচটি মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের কোনও অভাব নেই। পর্যাপ্ত জোগান থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র ‘প্যানিক বুকিং’ বা আতঙ্কে সিলিন্ডার বুক করার প্রবণতা বাড়ার কারণেই বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পরিসংখ্যান: স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বুকিং
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, স্বাভাবিক সময়ে দেশে দিনে গড়ে ৫৫ লক্ষ সিলিন্ডার বুকিং হত। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর সেই সংখ্যা আকাশছোঁয়া হয়েছে।
- শুক্রবার পর্যন্ত বুকিং: ৭৫ লক্ষ।
- শনিবারের আপডেট: ৮৮ লক্ষ। অথচ দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষমতা অপরিবর্তিত রয়েছে। সুজাতা শর্মার কথায়, “এটি সম্পূর্ণভাবেই আতঙ্কের ফল। গ্রাহকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, অযথা আতঙ্কিত হয়ে আগাম বুকিং করবেন না। একমাত্র প্রয়োজন হলেই সিলিন্ডার বুক করুন।”
উৎপাদন বৃদ্ধি ও পিএনজি সংযোগে নতুন নির্দেশ
গৃহস্থালির জোগান অব্যাহত রাখতে দেশীয় উৎপাদন কয়েক ধাপে বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র।
- উৎপাদন বৃদ্ধি: শুরুতে ১০ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে এখন এলপিজি উৎপাদনের হার ৩১ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
- পিএনজি গ্রাহকদের জন্য নিয়ম: যাঁদের বাড়িতে পাইপ্ড ন্যাচরাল গ্যাস (PNG) এবং এলপিজি— উভয় সংযোগই রয়েছে, তাঁরা আপাতত এলপিজি সিলিন্ডার পাবেন না। কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী, এই ধরনের গ্রাহকদের (বাণিজ্যিক ও গৃহস্থ) কাছে থাকা বাড়তি এলপিজি সিলিন্ডার ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ ও কালোবাজারি রুখতে তৎপরতা
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান নিয়ে কিছু রাজ্যে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা-ও মিটতে শুরু করেছে।
- ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনরায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। এই বণ্টনের অগ্রাধিকারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে।
- কালোবাজারি বিরোধী অভিযান: সিলিন্ডার মজুত রাখা বা কালোবাজারি রুখতে দেশজুড়ে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বা ঝটিকা তল্লাশি শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশেই ১৪০০টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ২০টি এফআইআর রুজু করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও বিহারেও পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ সক্রিয় রয়েছে।
গ্যাস অফিসে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে সশরীরে গ্যাস অফিসে ভিড় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফোনের মাধ্যমে বুকিং করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, “গ্যাস অফিসগুলি আগের মতোই গ্রাহকদের বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা অব্যাহত রাখবে। লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার কোনও প্রয়োজন নেই।”
পেট্রল ও ডিজেল জোগান স্বাভাবিক
এলপিজির পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বিষয়েও কেন্দ্র এদিন বড় বার্তা দিয়েছে। জানানো হয়েছে, দেশের কোথাও কোনও পেট্রল পাম্পে তেলের অভাব নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। হরমুজ় প্রণালীর পরিস্থিতির ওপর সরকার সজাগ নজর রাখছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জোগান অব্যাহত রাখতে সবরকম কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

