আরজি করের হস্টেলে ভেঙে পড়ল সিলিংয়ের চাঙড়: পরিকাঠামো নিয়ে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের ৬ দফা দাবি মানল কর্তৃপক্ষ

আরজি করের হস্টেলে ভেঙে পড়ল সিলিংয়ের চাঙড়: পরিকাঠামো নিয়ে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের ৬ দফা দাবি মানল কর্তৃপক্ষ

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পরিকাঠামোগত অব্যবস্থার অভিযোগ ঘিরে ফের বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এবার ছাত্রীদের হস্টেলের শৌচালয়ে সিলিংয়ের চাঙড় ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হলেন পড়ুয়ারা। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ‘স্টুডেন্টস বডি’-র প্রতিনিধিরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন এবং ছয় দফা দাবি পেশ করেন।

ঘটনার বিবরণ ও পড়ুয়াদের অভিযোগ

পড়ুয়াদের অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার রাতে মেয়েদের হস্টেলের একটি শৌচালয়ের সিলিং থেকে আচমকা একটি বড় চাঙড় ভেঙে পড়ে। ভাগ্যবশত সেই সময় সেখানে কেউ উপস্থিত না থাকায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, ললিত মেমোরিয়াল হস্টেল-সহ হাসপাতালের একাধিক হস্টেলের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং বাসযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হস্টেলগুলোর পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ও গৃহীত সিদ্ধান্ত

সোমবারের ম্যারাথন বৈঠকে পড়ুয়ারা হস্টেল ও হাসপাতালের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান। বৈঠক শেষে পড়ুয়ারা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত:

  • জরুরি মেরামত: সমস্ত হস্টেল মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
  • যৌথ পরিদর্শন: পূর্ত বিভাগ (PWD), হস্টেল সুপার এবং পড়ুয়াদের প্রতিনিধিরা মিলে প্রতিটি হস্টেল পরিদর্শন করবেন এবং কোনগুলো বাসযোগ্য তা খতিয়ে দেখবেন।
  • পরবর্তী আলোচনা: আগামী বৃহস্পতিবার ফের কর্তৃপক্ষ ও স্টুডেন্টস বডির মধ্যে বৈঠক হবে, যেখানে পরিকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হবে।
  • মৌলিক পরিষেবা: হস্টেলগুলোতে পানীয় জলের সমস্যা মেটানো এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরিকাঠামো নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্ক

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই আরজি করের পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফটে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে আটকে পড়ে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর ঠিক দু’দিন পরেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে আসা বিশ্বজিৎ সামন্ত নামে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু ঘিরেও অব্যবস্থার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, ট্রমা কেয়ারের নিকটবর্তী শৌচালয় ব্যবহার করতে না পেরে দূরে হেঁটে যেতে গিয়ে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

লিফট থেকে শৌচালয়, আর এবার ছাত্রীদের হস্টেল— একের পর এক ঘটনায় আরজি করের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো নিয়ে চিকিৎসক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে পরিস্থিতি কতটা শুধরোয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.