রাজ্য বন দফতরের জন্য বছরের শুরুতেই খুশির খবর। পাহাড়ি জঙ্গলে প্রায়ই দেখা মিলছিল কালো চিতাবাঘের। এ বার শৈলরানির জঙ্গলে দেখা মিলল কালো হরিণের। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে কার্শিয়াং বনবিভাগের ডাউহিল ফরেস্টে ওই কালো হরিণের দেখা মিলেছে।
বন দফতরের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ লক্ষ হরিণের মধ্যে এমন একটি কালো হরিণের জন্ম হয়ে থাকে। ওই কালো হরিণের জঙ্গলের মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছেন খোদ কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে।
কালো চিতাবাঘকে মেলানেস্টিক লেপার্ড বলা হয়ে থাকে। জিনগত কারণে সাধারণ চিতাবাঘের গায়ে কালো রঙের আধিক্য হয়। সেই একই কারণেই হরিণের গায়েও কালো রঙের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই হরিণ আদতে বার্কিং ডিয়ার। পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে এই বার্কিং ডিয়ারের দেখা মিলে থাকে আকছাড়। এর আগে বন দফতরের গবেষণায় কালো হরিণের অস্তিত্বের কথা জানা গিয়েছিল। তবে রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথম বার কালো হরিণ প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে। এমনটাই বলছে বন দফতরের সূত্র।
আর ওই হরিণের দেখা মিলতেই গোটা জঙ্গলে নজরদারি বাড়িয়েছে বন বিভাগ। কারণ, এই ধরণের হরিণের উপর চোরাশিকারিদের নজর থাকে। যাতে হরিণটি কেউ শিকার না করে, সে জন্য গোটা জঙ্গল জুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত বছরেও পাহাড়ের জঙ্গলে ডাউহিল, বাগোরা ও মিরিকে কালো চিতাবাঘের দেখা মিলেছিল। এই প্রথম বার মেলানিস্টিক হরিণের দেখা মিললো।
এই বিষয়ে কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ বলেন, ‘‘এটা আমাদের জন্য দারুণ সুখবর। এর আগে কালো চিতাবাঘের দেখা মিলেছে একাধিক বার। এ বার প্রথম মেলানিস্টিক হরিণের দেখা মিলল। এই ধরনের হরিণ খুব কম জন্মায়। সেজন্য গোটা জঙ্গল জুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’’

