বেনাগ্রাম। বাংলার এক ভূতুড়ে গ্রাম (haunted Benagram Village) বলে খ্যাত বা কুখ্যাত। কেউ বলে, ভূতের ভয়ে (fear of Ghost) ক্রমশ খালি হয়ে যাচ্ছে গ্রামটি। কেউ অবশ্য তার প্রতিবাদ করে বলে, ওসব ভূত-টুত কিছু নয়, এটা কোল মাফিয়া আর ক্রিমিনালদের (coal mafia and criminal activities) খেলা। সত্যি কোনটা? কেউ জানে না। কিন্তু সত্যটা হল, ২০ বছর ধরে ওখানে কেউ থাকে না। সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। নিশির ডাকে বেরিয়ে কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে লোকজন, আর এভাবেই ক্রমশ শ্মশান হয়ে যাচ্ছে এলাকা।
ভূতের গোয়েন্দা
তবে হয়তো সংশ্লিষ্ট এলাকার তরফে ভাবা হয়েছিল যে, কয়লা মাফিয়া বা ক্রিমিনালের প্রসঙ্গ সরিয়ে রেখে প্রথমে ভূত সমস্যার একটা সমাধান করা যাক। সেই লক্ষ্যে ডাক পড়েছিল কলকাতার ভূতের গোয়েন্দাদের– ‘ডিটেকটিভস অফ সুপারন্যাচারালস’দের। যার প্রতিষ্ঠাতা দেবরাজ সান্যাল। ডিরেক্টর ঈশিতা দাস সান্যাল। একটি অফিসিয়াল ইনভেস্টিগেশন করে তারা। এই মর্মে অনুরোধ গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের কাছে, আসানসোন/দুর্গাপুর কমিশনারেটে। বেনাগ্রামের নিকটবর্তী থানা কুলটি। অনুরোধ করা হয়, যদি সেখান থেকে সমস্ত রকম সহায়তা করা যায়। অনুরোধ রাখা হয় পুলিসের তরফে।
অবশেষে ‘ভূত ধরতে’
অবশেষে কলকাতা থেকে ‘ভূত ধরতে’ বেনাগ্রামের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে চারজনের একটি টিম। দেবরাজ সান্যাল এবং ঈশিতা দাস সান্যাল ছাড়াও সে দলে আছেন ফিল্ড ইনভেস্টিগেটর আয়ুষ মজুমদার এবং টেকনিক্যাল হেড অনির্বাণ দাস। অভিযানের দিন ধার্য হয় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর। প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ে ২২ অক্টোবরে। তাঁদের কাছে প্রাথমিক অভিযোগ ছিল মূলত দুটি– গ্রামটি কি হানাবাড়ির মতো হানা গ্রামে পরিণত হচ্ছে? গ্রামবাসীরা কি কোনও অপ্রাকৃত ঘটনার শিকার হয়ে ক্রমশ পালাচ্ছেন এলাকা ছেড়ে? কেন স্থানীয়রা এই অভিযোগ করেছেন? কারণ, কোনও ভূতুড়ে অস্তিত্ব দরজায় কড়া নাড়ে এখানে। এবং অজ্ঞাত কারণ ছাড়াই অদ্ভুত ভাবে মৃত্যু ঘটছে গ্রামবাসীদের। কখনও তাঁরা আত্মঘাতীও হচ্ছেন!
অদ্ভুত অডিয়ো এভিডেন্স
নির্দিষ্ট দিনে বিকেল থেকে অভিযান শুরু হয়ে চলে রাতভর। কিছু কি দেখতে পেলেন ভূতের গোয়েন্দারা? ভিসুয়াল এভিডেন্স কিছু মেলেনি। তবে, অবাক করা কিছু অডিয়ো এভিডেন্স মিলেছে। অপ্রাকৃত অস্তিত্বের উপস্থিতি মাপার যন্ত্রে কিছু ইশারা ধরা পড়েছে। তবে, সেক্ষেত্রে পৃথিবীর জিওম্যাগনেটিজমও গ্রাহ্য। এছাড়াও পরীক্ষার মধ্যে থাকে ওই এলাকার তাপমাত্রাও। সবটা মিলিয়েই একটা সিদ্ধান্ত করা হয়।
কী সিদ্ধান্ত?
কোনও প্যারানরমাল অ্য়াক্টিভিটির অস্তিত্ব ধরা পড়েনি। বা থাকলেও তা ‘লো’! ভূতুড়ে অস্তিত্বের কোনও চিহ্নই কোথাও নেই। তাই, গোয়েন্দাদের তরফে গ্রামবাসীদের নিশ্চিন্তে এসে এখানে বসবাস করার অনুরোধ করা হয়েছে। আর ক্রিমিনাল? সেটা পুলিসের ব্য়াপার। আর স্থানীয় পুলিস প্রশাসন সে বিষয়ে বহু দূর সাফল্য অর্জন করেছেন বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের খবর। ফলে বেনাগ্রাম এখন সব রকম অশুভ অস্তিত্বের হাত থেকেই রেহাই পেয়েছে।

