জ্ঞানব্যাপী মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেল মুসলিম পক্ষ। মসজিদ কমিটির সমস্ত আবেদন প্রত্যাখ্যান করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এই বিতর্কিত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মসজিদ প্রাঙ্গনে পুজোর অধিকার এবং মসজিদ চত্বরে এএসআই সমীক্ষা চালানোর জন্য হিন্দু পক্ষের আবেদনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেছিল মসজিদ কমিটি, কিন্তু মঙ্গলবার সব আবেদান খারিজ করে দিয়েছে এলাবাদ হাইকোর্ট।
বারাণসী জ্ঞানব্যাপী মসজিদ বিতর্ক নিয়ে সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড, অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি মোট পাঁচটি আবেদন করেছিল। তার মধ্যে তিনটি করেছিল মসজিদ কমিটি। দুটি করেছিল উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডে। ৮ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ করেছিল আদালত, কিন্তু রায় দেয়নি।
পাঁচটি আবেদনের মধ্যে একটি ছিল ১৯৯১ সালে বারানসি আদালতের দায়ের হওয়া মামলা, রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত। ভগবান আদি বিশ্বেশ্বর বিরাজমানের পক্ষে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। একটা মন্দিরের উপর জ্ঞানব্যাপী মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করে মসজিদ প্রাঙ্গণের নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে পূজার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি, সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড যুক্তি দিয়েছিল, ১৯৯১ সালে উপাসনালয় আইনের আওতায় মামলাটি রক্ষণাবেক্ষণ যোগ্য নয়। উপাসনালয় আইন অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কোনও ধর্মীয় স্থানের চরিত্র পরিবর্তন করা যায় না।
এই মামলায় আবেদনকারীরা পাল্টা যুক্তি দিয়েছিলেন, জ্ঞানব্যাপী বিতর্ক স্বাধীনতার আগে থেকে চলছে। তাই এটি উপাসনালয় আইনের আওতায় পড়ে না। হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগারওয়াল জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের মামলাটি রক্ষণাবেক্ষণ যোগ্য। এটি ধর্মীয় উপাসনালয় আইনের অধীনে পড়বে না। তিনি বারানসি আদালতকে ছয় মাসের মধ্যে এই মামলার শুনানি শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত আরো বলেছে, মসজিদ চত্বরে মুসলিম বৈশিষ্ট্য বা হিন্দু বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। এই পর্যায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মামলাটির সঙ্গে দেশে দুটি প্রধান সম্প্রদায় জড়িত। নিম্ন আদালতকে ছয় মাসের মধ্যেই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
পাশাপাশি, মসজিদ চত্বরে এএসআই সমীক্ষার বিষয় ২০২১ সালে বারাণসী জেলা আদালতে আদেশ দিয়েছিল। তাকেও চ্যালেঞ্জ করেছিল মুসলিম পক্ষ। এক্ষেত্রেও তাদের যুক্তি ছিল ১৯৯১ সালে উপাসনালয় আইনের অধীনে মসজিদ চত্বরে খোঁড়াকড়ি করা উচিত নয়। হিন্দু পক্ষ বলেছিল, জ্ঞানব্যাপী মসজিদ আসলে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একটি অংশ। কাজেই সমীক্ষা অবশ্যক। মুসলিম পক্ষের আপত্তি উড়িয়ে হাইকোর্ট এএসআইকে সমীক্ষা করার সবুজ সংকেত দিয়েছে।
আদালত বলেছে, এর আগে মসজিদ চত্বরে এএসআই সমীক্ষা চালিয়েছে। তার কাজ যদি কিছু বাকি থাকে তবে তা আবার করা যেতে পারে। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট বারাণসী জেলা আদালতে জমা দেওয়া যাবে।
যদিও, এই রায় দেওয়ার একদিন আগেই বারাণসী জেলা আদালতে এএসআই একটি মুখ বন্ধ খামে মসজিদ কমপ্লেক্সে করা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ২১ ডিসেম্বর এই রিপোর্ট আবেদনকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এর একটি অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টেও পাঠানো হবে।

