কলকাতা বইমেলায় এ বছরও থাকছে না বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। এমনটা যে হতে চলেছে, তা অনুমান করা গিয়েছিল আগেই। গত মাসেই তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। এ বার তা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করে দিল আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড।
২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের এক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত চাপানউতরের মাঝে গত বছরও বইমেলায় অংশগ্রহণ করেনি বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সাল থেকে যে ধারাবাহিক ভাবে কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করত বাংলাদেশ, তাতে ছেদ পড়ে গত বছরই। এ বারও তা-ই হচ্ছে। ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাতেও থাকছে না বাংলাদেশের কোনও প্যাভিলিয়ন। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, “২০২৫ সালে তারা (বাংলাদেশ) অংশগ্রহণ করেনি। এ বারও করবে না। কোনও জায়গা থেকে সবুজসঙ্কেত আসেনি।”
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এ বছরের কলকাতা বইমেলা। ওই দিন বিকেলে সল্টলেকে বইমেলা প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো অগাস্টিন কাউসিনো এবং আর্জেন্টিনীয় সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে। এ বারের বইমেলায় থিম দেশ আর্জেন্টিনাই। এই দেশের সঙ্গে যোগ রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও। ১৯২৪ সালে পেরু যাওয়ার পথে অসুস্থ অবস্থায় আর্জেন্টিনায় নেমেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ওই সময়ে বুয়েনস আইরেসে আর্জেন্টিনীয় সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর আতিথেয়তায় ছিলেন তিনি। সেই আর্জেন্টিনাই এ বারের কলকাতা বইমেলায় থিম দেশ।
বাংলাদেশ ২০২৪ সালে শেষ বার যখন বইমেলায় অংশগ্রহণ করেছিল, তখন তাদের প্যাভিলিয়নই সেরা প্যাভিলিয়নের সম্মান পেয়েছিল। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কোনও প্রকাশনাকেই দেখা যাবে না বইমেলায়। এমনটা যে হতে পারে, তার আভাস অবশ্য আগেই মিলেছিল। এ বছরের বইমেলায় এক হাজারেরও বেশি স্টল থাকছে। সরাসরি এবং যৌথ ভাবে অংশগ্রহণ করছে প্রায় ২০টি দেশ।

