সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি: সিসিটিভি-তে কাদা লেপে গয়না ও প্রণামী লুঠ করে চম্পট দুষ্কৃতীদের

সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি: সিসিটিভি-তে কাদা লেপে গয়না ও প্রণামী লুঠ করে চম্পট দুষ্কৃতীদের

পূর্ব বর্ধমানের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরে মঙ্গলবার গভীর রাতে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল। মন্দিরের তালা ভেঙে কালীমূর্তির সোনারুপর অলঙ্কার এবং প্রণামী বাক্সের সর্বস্ব নিয়ে চম্পট দিয়েছে একদল দুষ্কৃতী। জি নিউজ (Zee News) ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মন্দির চত্বরে পুলিশ ক্যাম্প ও সিসিটিভি নজরদারি থাকা সত্ত্বেও এই চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


ঘটনার বিবরণ: সুপরিকল্পিত অপারেশন

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে হানা দেয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে তারা অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোতে কাদা লেপে দেয়। এরপর রটন্তী কালী মন্দিরের গর্ভগৃহের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা।

লুঠ হওয়া সামগ্রীর তালিকা:

  • কালী মূর্তির রুপোর মুকুট ও পায়ের মল।
  • একটি সোনার চেন।
  • প্রণামী বাক্সে থাকা সমস্ত নগদ টাকা।

কীভাবে নজরে এল চুরির ঘটনা?

বুধবার ভোরে মন্দিরের কর্মী ধনঞ্জয় পাল প্রতিদিনের মতো জল নিয়ে প্রণাম করতে গেলে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তিনি জানান, “ভেতরে গিয়ে দেখি পর্দার আড়াল থেকে সবকিছু লন্ডভন্ড লাগছে। পর্দার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেই দেখি সব ভাঙাচোরা। তখনই চিৎকার করে সবাইকে খবর দিই।” প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মন্দিরের পাশের জঙ্গলে ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল প্রণামী বাক্সটি, যার ভেতরে কোনও টাকা ছিল না।


নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন

সতীপীঠের প্রধান সেবক রামদাস বাবাজি জানিয়েছেন, “সিসিটিভি-তে কাদা মাখিয়ে দুষ্কৃতীরা কাজ সেরেছে। মায়ের মুকুট, গলার চেন ও পায়ের তোড়া নিয়ে পালিয়েছে তারা। তবে অলঙ্কারের সঠিক বাজারমূল্য বা প্রণামী বাক্সে কত টাকা ছিল, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।”

এলাকাবাসীদের মনে সবথেকে বড় প্রশ্ন জাগছে মন্দিরের নিজস্ব পুলিশ ক্যাম্প নিয়ে। পুলিশি টহল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুষ্কৃতীরা পেছনের মাঠ ও জঙ্গল দিয়ে ঢুকে এই কাণ্ড ঘটাতে পারল, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়েই দুষ্কৃতীরা পেছনের নির্জন এলাকা দিয়ে মন্দিরে ঢুকেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.