নির্বাচনী আবহে উত্তপ্ত বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপির বুথ সভাপতিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিউড়ি থানার পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিউড়ির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৮ নম্বর বুথ। ওই বুথের বিজেপি সভাপতি উপেন দাসের অভিযোগ, বুধবার বেলার দিকে সিউড়ি থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক বিশাল দল তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁকে নির্বাচনী প্রচারে বের হতে নিষেধ করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন ১৭১ নম্বর বুথের সভাপতি গোপাল দাসও। তাঁর দাবি, প্রায় ৪০-৫০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে মহিলাদের শাসিয়ে এসেছে।
ঘটনাস্থলে বিজেপি প্রার্থী ও বিক্ষোভ
খবর পাওয়া মাত্রই ১৬৮ নম্বর বুথে পৌঁছান সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘তৃণমূলের দালালি’ করার স্লোগান ওঠে। প্রার্থীর নেতৃত্বে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে পড়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
নেতৃত্বের বক্তব্য
ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“বিগত কয়েকদিন ধরেই সিউড়ি থানার পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল করে আমাদের বুথ সভাপতিদের ভয় দেখাচ্ছে। তৃণমূলের কথায় বিজেপি কর্মীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হলে আমরা ছেড়ে কথা বলব না। আমরা এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ স্তরে লিখিত অভিযোগ জানাব।”
অন্যদিকে, বুথ সভাপতি উপেন দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে রাজনৈতিক কারণে হেনস্থা করা হচ্ছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আমরা বিজেপি কর্মী, প্রচারে তো বেরোবই।”
তৃণমূলের পাল্টা দাবি
বিজেপির এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেন:
“পুলিশকে হুমকি দেওয়া বিজেপির মজ্জাগত সংস্কৃতি। ওরা ভেবেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ওদের হয়ে কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে ওদের পাশে কমিশন ছাড়া কেউ নেই।”
বর্তমান পরিস্থিতি
এই ঘটনার পর সিউড়ির ওই এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন ভেঙে পুলিশ কোনো অতিসক্রিয়তা দেখিয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

