টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ড্যারিল মিচেলের দিকে বল ছুড়ে ১৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা গুনেছিলেন অর্শদীপ সিংহ। মাঠের সেই উত্তপ্ত মুহূর্ত নিয়ে বিশ্বকাপের তিন দিন পর মুখ খুললেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। সোজাসাপ্টা ভাষায় গম্ভীর জানিয়ে দিলেন, এই ঘটনায় অর্শদীপের ক্ষমা না চাইলেও চলত। ক্রিকেটের মাঠে আগ্রাসন থাকাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল ফাইনালে?
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের মাঝপথে অর্শদীপের একটি বল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেন ড্যারিল মিচেল। ফলো-থ্রু’তে বলটি কুড়িয়েই সরাসরি মিচেলের দিকে ছুড়ে দেন অর্শদীপ। বলটি সজোরে কিউয়ি ব্যাটারের ঊরুতে লাগে। ঘটনার আকস্মিকতায় ক্ষুব্ধ মিচেল এবং অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার আম্পায়ারের কাছে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে এগিয়ে আসতে হয়। ম্যাচ শেষে অবশ্য অর্শদীপ নিজে গিয়ে মিচেলের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
গম্ভীরের ‘আগ্রাসী’ পর্যবেক্ষণ
বুধবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর এক পডকাস্টে অর্শদীপের আচরণের পূর্ণ সমর্থন করেন গম্ভীর। তাঁর মতে:
- স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া: দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সময় আগ্রাসন দেখানো দোষের কিছু নয়। পরপর ছক্কা খাওয়ার পর কোনও বোলারই শান্ত থাকতে পারেন না।
- ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই: গম্ভীর বলেন, “ও ক্ষমা চেয়েছে তাতে খারাপ কিছু নেই। কিন্তু ও যদি ক্ষমা না-ও চাইত, তাতেও কোনও সমস্যা ছিল না। ও কোনও ভুল করেনি। আমি বোলারদের থেকে এমন প্রতিক্রিয়াই আশা করি।”
- মাঠে কোনও বন্ধু নেই: কোচের স্পষ্ট বার্তা, ক্রিকেট মাঠে বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু হয় না। প্রত্যেকেই জেতার জন্য মাঠে নামেন। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সাধারণ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলেই বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে।
‘রিভার্স সুইং’ ও অর্শদীপের রসিকতা
শাস্তি এবং গম্ভীরের সমর্থনের মাঝে অর্শদীপ অবশ্য বিষয়টি হালকা মেজাজেই নিয়েছেন। ঘটনার পর রসিকতা করে তিনি বলেছিলেন, “আমি মিচেলকে বললাম যে আমার থ্রো-টা একটু রিভার্স সুইং হয়ে ওর গায়ে লেগেছে। আমি মোটেও ইচ্ছা করে মারিনি।”
আইসিসি অবশ্য অর্শদীপের এই যুক্তিকে ধোপে টিকতে দেয়নি এবং আচরণবিধির লেভেল-১ ভঙ্গের দায়ে তাঁর ম্যাচ ফি-র অংশ কেটে নিয়েছে। তবে কোচের এমন প্রকাশ্য সমর্থন তরুণ এই পেসারের আত্মবিশ্বাস যে আরও বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

