কোমায় চলে যাওয়ার আট দিনের মধ্যে বাড়ি ফিরলেন মার্টিন, ‘অলৌকিক’ বলছেন প্রাক্তন সতীর্থেরা

সুস্থ হওয়ার খবর আগেই পাওয়া গিয়েছিল। এ বার হাসপাতাল থেকেও ছাড়া পেলেন ড্যামিয়েন মার্টিন। তিনি বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। কোমায় চলে গিয়েও আট দিনের মধ্যে যে এ ভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন, তা ভাবতে পারেননি কেউই। মার্টিনের সতীর্থেরা বলছেন, এই ঘটনা ‘অলৌকিক’।

গত ৩১ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার মার্টিনকে। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। ৪ জানুয়ারি কোমা থেকে বেরোন। সাধারণ বেডে দেওয়া হয় তাঁকে। তার চার দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন তিনি।

সেই খবরও দিয়েছেন প্রাক্তন সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। অ্যাশেজ়ের ধারাভাষ্য দেওয়ার ফাঁকে তিনি বলেন, “দুর্দান্ত খবর হল ওকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য ওকে আরও কিছুটা পথ পেরোতে হবে। তবে বাড়ি ফিরেছে এই খবরটাই খুব খুশি করেছে আমাকে। সমর্থন এবং শুভকামনার জন্য ওর পরিবারও কৃতজ্ঞ।”

সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন মার্টিনের আর এক প্রাক্তন সতীর্থও মার্ক ওয়ও। তিনি বলেন, “সত্যি অলৌকিক একটা ঘটনা, তাই না? আইসিইউতে ভর্তি থাকার সময় ওকে দেখে খারাপ লেগেছিল।”

মার্টিনের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে গিলক্রিস্ট বলেন, “চিকিৎসকেরা আমাকে জানিয়েছেন, অ্যাম্বুল্যান্সে যাঁরা ছিলেন তাঁরা মার্টিনকে দেখামাত্রই চিকিৎসা শুরু করে দেন। এর থেকে নিখুঁত ভাবে চিকিৎসকা করা সম্ভব ছিল না। ফলে সংক্রমণ অঙ্কুরেই নষ্ট করা গিয়েছে। এখনও কিছুটা যাত্রা বাকি। তবে যে খবর পেয়েছি সেটা আরও ভাল।”

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৭ টেস্টে ৪৪০৬ রান করেছেন মার্টিন। ২০৮ এক দিনের ম্যাচে করেছেন ৫৩৪৬ রান। টেস্ট ও এক দিনের ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১৮ শতরান করেছেন ৫৪ বছর বয়সি এই ব্যাটার। দুই ফরম্যাট মিলিয়ে ১৪টি উইকেটও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা ছিল মার্টিনের। ফাইনালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারতের বিরুদ্ধে ৮৮ রান করেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ২০০৬ সালে ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় দেখা যেত তাঁকে। তবে গত কয়েক বছরে তা-ও কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.